ধর্ম প্রতিমন্ত্রী পদে লিংকনের নিয়োগ বাতিলের দাবি মধুপুর পীরের
নবনিযুক্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনকে সরিয়ে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ হানাফি মাজহাবের অনুসারী কোনো যোগ্য আলেমকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর আল্লামা আব্দুল হামিদ (মধুপুর পীর সাহেব)।
একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বিতর্কিত ট্রান্সজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন বাতিল এবং ‘হিজবুত তাওহিদ’ নিষিদ্ধের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব দাবি জানান মধুপুর পীর সাহেব।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ হানাফি মাজহাবের অনুসারী। তাই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে হানাফি মাজহাবের একজন যোগ্য আলেমকে নিয়োগ দেওয়া উচিত। বর্তমান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর আকিদা ও মাজহাব নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আল্লামা আব্দুল হামিদ বলেন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিজেকে হানাফি মাজহাবের অনুসারী ও লা-মাজহাবী নন—এ মর্মে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিলে এ নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান হতে পারে। তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে দ্রুত সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজের আকিদা ও অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও দাওয়াতের জন্য একাধিকবার লোক পাঠানো হয়েছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাক্ষাৎ না করে পরবর্তী সময়ে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সম্মেলনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসেরও সমালোচনা করেন মধুপুর পীর সাহেব। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম আইনের কিছু বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এ ধরনের আইন থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামী নিয়েও বক্তব্য দেন আল্লামা আব্দুল হামিদ। সাহাবায়ে কেরামকে ইসলামের সত্য-মিথ্যার মাপকাঠি উল্লেখ করে তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর চিন্তাধারার সমালোচনা করেন। নির্বাচনের আগে ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও আপত্তি জানান তিনি।
এ ছাড়া দেশে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আকিদা-বিশ্বাস সংরক্ষণে সরকারের আরও সতর্ক ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মধুপুর পীর সাহেব। সম্মেলন থেকে ধর্মীয় বিষয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করারও আহ্বান জানানো হয়।


