আমাকে প্রথমে ‘ফজু পাগলা’ বলেছে মুফতি আমির হামজা

রাজনীতি
আমাকে প্রথমে ‘ফজু পাগলা’ বলেছে মুফতি আমির হামজা
নিউজ ডেস্ক
২৬ আগস্ট ২০২৫

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ফজলুর রহমান অভিযোগ করেছেন, একটি মহল তাকে সামাজিকভাবে হেয় এবং শারীরিকভাবে ক্ষতির চেষ্টায় লিপ্ত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তার ও পরিবারের সদস্যদের জীবন এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভবনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী ও সন্তান উপস্থিত ছিলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, “৫৪ বছর আগে এই দেশের স্বাধীনতার জন্য আমি যুদ্ধ করেছি। আজ আমাকে ‘ফজু পাগলা’ বলে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। আমার নামে বাসার সামনে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি কি এই দেশে নিরাপদ?”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি দাবি করেন, ‘ফজু পাগলা’ নামটি প্রথম ব্যবহার করেন মুফতি আমির হামজা নামের একজন ধর্মীয় বক্তা, যিনি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পরে জামায়াতে ইসলামীর অনুসারীরাও এ নামে সম্বোধন শুরু করেন।

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে দেওয়া ‘বিতর্কিত’ মন্তব্যের কারণে ফজলুর রহমানকে সম্প্রতি দলীয়ভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়। এরপরই রাজধানীর সেগুনবাগিচায় তার বাসার সামনে কিছু ব্যক্তি অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

তিনি বলেন, “কেউ যদি মনে করেন, আমি দল বা দেশের বিরুদ্ধে কিছু বলেছি, তাহলে মামলা করুন। বিচার করুন। কিন্তু আমাকে হত্যার হুমকি কেন?”

তিনি আরও বলেন, “মৃত্যুকে ভয় করি না। কিন্তু অপমৃত্যু লজ্জাজনক। যদি কেউ আমার বিরুদ্ধে কিছু মনে করেন, তারা আইনগতভাবে মোকাবিলা করুক। কিন্তু বাসার সামনে মব জড়ো করে ভয় দেখানো অগ্রহণযোগ্য।”

ফজলুর রহমান বলেন, “আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী, এবং একজন পেশাদার আইনজীবী। দলের কাছ থেকে শোকজ পাওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। দলকে আমি উত্তর দেব। তবে প্রশ্ন হলো, শোকজের পরেই কেন হঠাৎ এই বিক্ষোভ?”

তিনি বলেন, “এই দেশে কি আমার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধার একা চলাফেরা করা যাবে না? আমাকে বাঁচাতে যদি পুলিশ বা সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়, তা কি একজন নাগরিক হিসেবে সম্মানজনক?”

ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “আমি জামায়াত-শিবির ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বিরুদ্ধে অতীতেও বলেছি, ভবিষ্যতেও বলব। কিন্তু এজন্য যদি কেউ ক্ষুব্ধ হয়, তারা আইনগত ব্যবস্থা নিক। হত্যা বা হুমকি কোনো সমাধান হতে পারে না।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে তিনি বলেন, “আমি জনগণের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি—এই দেশে আমার বেঁচে থাকার অধিকার আছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর দিন।”