জাপা কার্যালয়ের সামনে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, মারাত্মক আহত নুরুল হক নূর
রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে ফের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা। এ ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের নেতা ও সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর মারাত্মক আহত হয়েছেন।
ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন নূর। তার মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল কাকরাইল হয়ে যাওয়ার সময় জাপা কার্যালয়ের সামনে হঠাৎ করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা রূপ নেয় সংঘর্ষে। উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে নুরুল হক নূর মিছিলের সামনে থাকাকালে হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
-
গণঅধিকার পরিষদের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে জাপা কর্মীরা হামলা চালিয়েছে এবং তাদের নেতাকে টার্গেট করা হয়েছে।
-
জাপার পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি, গণঅধিকার পরিষদ উসকানিমূলক শ্লোগান দিয়ে কার্যালয়ের সামনে এসে হামলা শুরু করে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। রমনা থানার ওসি গণমাধ্যমকে জানান, “অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। কারা দায়ী, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি, তবে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
নুরুল হক নূরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মুখে ও বুকে গুরুতর জখম রয়েছে বলে চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া এবং প্রতিপক্ষ দমনে সহিংস কৌশল আশঙ্কাজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, “যেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচি সহনশীলতার জায়গা হয়ে উঠতে পারে, সেখানে তা সহিংসতায় পরিণত হওয়া গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।”


