ইউরোপের প্রতিনিধিরা পিআরের কথা সহজেই বুঝতে পেরেছেন: তাহের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, দেশে প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা (Proportional Representation বা PR) চালু হলে নির্বাচন হবে আরও গ্রহণযোগ্য এবং সহিংসতাও কমবে। তিনি দাবি করেন, “পিআর ব্যবস্থায় এককভাবে কোনো প্রার্থী কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করবে না”।
মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়ন দূতাবাসে ইইউ পার্লামেন্টের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
৪ সদস্যের জামায়াত প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।
বৈঠকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ইইউ পার্লামেন্টারি দলের সভাপতি মুনির সাতৌরী, লুক্সেমবার্গের ইসাবেলা ভিয়েডার-লিমা, পোল্যান্ডের আরকাদিউস মুলারচিক, এস্তোনিয়ার উর্মাস পায়েট এবং নেদারল্যান্ডসের কাতারিনা ভিয়েইরা।
বৈঠক শেষে ডা. তাহের বলেন,
“ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা বলেছেন, তাদের দেশেও পিআর সিস্টেম রয়েছে। ফলে তারা আমাদের প্রস্তাব সহজেই বুঝতে পেরেছেন।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডা. তাহের বলেন,
“মেয়াদ বাড়ালেই ঐকমত্য আসবে— তা মনে করি না। ঐকমত্যে পৌঁছাতে এক ঘণ্টাও যথেষ্ট। কিন্তু আমরা দেখছি, সময় বাড়িয়ে শুধু ঘুরপাক খাওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন,
“এক মাস ঘুরে আবার এক মাস পেছনে গেছি। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। ফলে আরও একটি মূল্যবান মাস নষ্ট হলো।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,
“৭২ ঘণ্টার বেশি সময়েও ফল ঘোষণা করা হয়নি। সবাই দেখছিল বলেই ফল ওল্টাতে পারেনি। কিন্তু মানসিকতা তো রয়ে গেছে। জাতীয় নির্বাচনেও এমন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তাই পিআর ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন,
“এই পদ্ধতিতে একজন প্রার্থী এককভাবে দাঁড়াবে না। ফলে সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ফল জালিয়াতি ইত্যাদির প্রবণতা কমে আসবে। অন্তত একবার পরীক্ষামূলকভাবে এটি প্রয়োগ করা যেতে পারে।”
জামায়াত নেতারা জানান, তারা গত কয়েক মাস ধরেই কনসেনসাস কমিটির সঙ্গে কাজ করছেন। যদিও প্রক্রিয়াটি এখনো আইনি ভিত্তি পায়নি।
“আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি। এখন কেবল প্রয়োজন একটি সিদ্ধান্ত। কিন্তু সিদ্ধান্ত আসছে না,” — বলেন ডা. তাহের।


