পিআরভিত্তিক নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে দেশজুড়ে ইসলামী আন্দোলনের গণমিছিল
দেশব্যাপী প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন (পিআর) পদ্ধতি চালুসহ পাঁচ দফা দাবিতে গণমিছিল করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর সংগঠনটি দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও থানা শহরে একযোগে এ গণমিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে।
গণমিছিলপূর্ব সমাবেশে বক্তারা বলেন,
“জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি সরকারের পতনের ঘটনা নয়, বরং স্বৈরতন্ত্রকে চিরতরে বিদায় জানানোর লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক ধাপ। এই আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়, তাই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা হতে হবে স্বৈরতন্ত্র প্রতিরোধী ও অংশগ্রহণমূলক।”
বক্তারা বলেন, পিআর পদ্ধতি বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা, যা দেশের রাজনৈতিক বৈচিত্র্য ও জনমতের বাস্তব প্রতিফলন নিশ্চিত করবে। তারা আরও দাবি করেন,
“পিআর নিয়ে যারা মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তারা আসলে সম্ভাব্য ফ্যাসিবাদের কণ্ঠস্বর— জাতি তাদের সেই ভাবেই বিবেচনা করবে।”
ইসলামী আন্দোলনের ৫ দফা দাবি:
১. জুলাই সনদের আইনগত স্বীকৃতি ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা
২. গণহত্যার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরপেক্ষ বিচার
৩. ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচারের আওতায় আনা এবং বিচারকালীন রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা
৪. নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা
৫. আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতিতে আয়োজন করা
সাম্প্রতিক সময়ে পিআর নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েকটি রাজনৈতিক দল এ পদ্ধতির পক্ষে সোচ্চার হলেও অনেকেই এর কার্যকারিতা ও প্রয়োগযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ইসলামী আন্দোলনের এই গণমিছিল তাই একদিকে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ, অন্যদিকে পিআর পদ্ধতির পক্ষে বর্ধিত জনসমর্থন তৈরির কৌশল হিসেবেও বিশ্লেষিত হচ্ছে।


