সেফ এক্সিট” বিতর্কে নতুন মোড়, উপদেষ্টাদের নামের ধারণা দিলেন জুলকারনাইন সায়ের

রাজনীতি
সেফ এক্সিট” বিতর্কে নতুন মোড়, উপদেষ্টাদের নামের ধারণা দিলেন জুলকারনাইন সায়ের
নিউজ ডেস্ক
১৫ অক্টোবর ২০২৫

সম্প্রতি আলোচিত “সেফ এক্সিট” ইস্যুতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। এক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ব্যক্তি স্বার্থে সরকারের নীতি ও আদর্শ থেকে সরে গিয়েছেন, যা ‘বিপ্লবের স্পিরিট’-এর সঙ্গে বেইমানির শামিল।

সাক্ষাৎকারে সায়ের বলেন,

“নাহিদ ইসলাম যে বলেছেন—অনেকে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন এবং ‘সেফ এক্সিট’ ভাবছেন—আমি মনে করি তিনি ভুল বলেননি। বরং আমি নিজেও এমন কিছু তথ্য পেয়েছি, যা ওই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জুলকারনাইন তার অভিযোগে সরাসরি একজন নারী উপদেষ্টার নাম উল্লেখ করে বলেন, তার পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা রয়েছে সাবেক ব্যবসায়ী নসরুল আহমেদ বিপু-এর পরিবারের সঙ্গে। তিনি দাবি করেন,

“২০২১ সালে বিপু পরিবারের মালিকানাধীন একটি বড় কারখানা—হামিদ সোয়েটারস—এই উপদেষ্টার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকী এবং তাদের ছেলের নামে হস্তান্তর করা হয়। যার মূল্য অন্তত ৫০০ কোটি টাকা।”

তথ্য অনুসন্ধানে সায়ের বলেন, এই হস্তান্তরের কোনো বৈধ নথিপত্র বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া পাওয়া যায়নি, এবং কয়েকটি উৎস বলছে, পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এই সম্পদ হস্তান্তর গোপনে সম্পন্ন হয়।

সায়ের আরও অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে এখনো এমন কর্মকর্তারা রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তারা এখনো প্রভাবশালী পদে বহাল রয়েছেন।

তার ভাষায়,

“এইভাবে চললে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবে অধরাই থেকে যাবে।”

জুলকারনাইনের এসব বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে জোরালো প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকেই বলছেন, তার বক্তব্য সরকার ও উপদেষ্টা পরিষদের ভেতরের স্বচ্ছতা ও সততার প্রশ্ন তুলেছে।

তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সায়েরের অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত নয়—এটি বড় পরিসরে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নীতিনৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।