জুলাই সনদ ‘ইনসাফভিত্তিক শোষণমুক্ত রাষ্ট্র’ গঠনে স্মরণীয় পদক্ষেপ: লায়ন ফারুক

রাজনীতি
জুলাই সনদ ‘ইনসাফভিত্তিক শোষণমুক্ত রাষ্ট্র’ গঠনে স্মরণীয় পদক্ষেপ: লায়ন ফারুক
নিউজ ডেস্ক
১৮ অক্টোবর ২০২৫

১২ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান বলেছেন, “জুলাই সনদ শুধু একটি দলিল নয়, এটি ইনসাফভিত্তিক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের পথনির্দেশনা হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

লায়ন ফারুক রহমান বলেন, “এই সনদের মধ্য দিয়ে যে নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা দেশের জনগণের বহুদিনের আশা ও আন্দোলনের ফসল। বিশেষ করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যে স্বপ্ন জাগ্রত হয়েছিল, তারই পরিণত রূপ হচ্ছে এই সনদ।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি আরও বলেন, “যদিও কিছু দল এখনো দ্বিমত পোষণ করছে, তবুও যেসব বিষয়ে ইতোমধ্যে ঐকমত্য হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর নয়, জনগণের সংগ্রামেরও স্বীকৃতি।”

লায়ন ফারুক বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা একটা স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ভিন্নমত ও আপত্তি বাদ দিলেও যেসব বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- তাও তাৎপর্যপূর্ণ। সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট প্রদানের অধিকার, বিরোধী দলের সদস্যদের ডেপুটি স্পিকারসহ বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির প্রধান হওয়ার বিধান, প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ভেতর থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ; সরকার, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ ইত্যাদি যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, “এই সংস্কারগুলো একদিনে আসেনি। এগুলো এসেছে বহুদিনের দাবি, সংগ্রাম ও রক্তপাতের পথ বেয়ে।”

লায়ন ফারুক বলেন, “জুলাই সনদে স্বাক্ষর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দৃঢ় প্রকাশ। জনগণের চাহিদাকে আমরা রাজনীতির কেন্দ্রে রাখতে চাই।”

তিনি আরও যোগ করেন, “যারা এখনো সনদ থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন, আশা করি তারা খুব শিগগিরই তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবেন।”

আলোচনার শেষে তিনি বলেন, “শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে আমাদের সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত করতে হবে। আসুন সবাই মিলে এই পথচলায় অংশ নিই।”

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ হচ্ছে একটি সমঝোতা দলিল, যা অন্তর্বর্তী সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সনদের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোতে ব্যাপক সংস্কার আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।