১০-১৫টি আসনের আশ্বাস পেলে কেউ কেউ গণভোটের দাবি থেকে সরে যাবে: নুর
আগামী জাতীয় নির্বাচনে ১০–১৫টি আসনের প্রতিশ্রুতি বা বিরোধী দলের স্বীকৃতি পেলে অনেক রাজনৈতিক দলই গণভোটের দাবি থেকে সরে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
শনিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর এক হোটেলে সেন্টার ফর গভার্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ফ্রেডরিখ এবার্ট স্টিফটুং (এফইএস)-এর আয়োজিত কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
নুর বলেন, “আমরা গণভোটের দাবি তুলেছিলাম, এখন আবার কেউ কেউ বলছে আগে করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—আগে গণভোট আয়োজন প্রশাসনিক ও আর্থিকভাবে সম্ভব নয়। জাতীয় নির্বাচন আর গণভোট একসঙ্গেই ফেব্রুয়ারিতে হতে হবে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “কেউ কেউ ১০–১৫টা আসনের আশ্বাস পেলে গণভোটের দাবি ছেড়ে দেবে। আবার কেউ বিরোধী দল হওয়ার স্বীকৃতি চাইছে বড় দলের কাছ থেকে। এই হিপোক্রাসিই আমাদের রাজনীতির বড় সমস্যা।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, এনসিপির তাসনিম জারা, এফইএস বাংলাদেশের প্রতিনিধি ফিলিক্স গ্রাদেস ও সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী। সঞ্চালনা করেন সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান।
জিল্লুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে স্বাধীনতার পরও জনগণের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা ফিরে যায়নি। নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনাই এখন সময়ের দাবি।”
বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “সংস্কার, বিপ্লব ও নৈরাজ্যের পার্থক্য অনেক তরুণ রাজনীতিকই বোঝে না। অভিজ্ঞ নেতারাও কখনো কখনো সচেতনভাবে বিভ্রান্তি ছড়ান, যা বিপজ্জনক।”
অন্যদিকে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মঞ্জু বলেন, “এখন তরুণ রাজনীতিকরা ভিন্ন মত নিয়ে একসঙ্গে বসছে—এটাই ইতিবাচক পরিবর্তন। তবে রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া গণভোট বা সনদ বিতর্কের কোনো সমাধান হবে না।”
সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, “অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের লক্ষ্যকে একত্র করেই অগ্রসর হতে হবে।”


