খালেদা জিয়ার মৃত্যু একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, দায় শেখ হাসিনার: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি অভিযোগ করেছেন, তৎকালীন সরকারের অবহেলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট-এর উদ্যোগে খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি ও দোয়া অনুষ্ঠানে রিজভী এসব মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, “বেগম খালেদা যদি ঘরে বসে থাকতেন, তবু আমরা সাহস পেতাম। বিশেষ করে তৎকালীন সরকারের নৃশংস দুর্বিপাকে যখন আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জোরালো কথা বলার চেষ্টা করছিলাম, তখন তার নেতৃত্বই আমাদের অনুপ্রেরণা ছিল। তিনি ছিলেন দেশের জন্য একটি বিশাল ছাতার মতো আশ্রয়স্থল। যেভাবে পরিবারে মায়ের উপস্থিতি সন্তানদের সাহস যোগায়, ঠিক তেমনি বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সারা জাতির আশ্রয়।”
তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রী কখনো হুমকির মুখে দেশ ছেড়ে যাননি এবং সত্যিকার অর্থে গোটা জাতির মা ছিলেন। রিজভী ব্যাখ্যা করেন, খালেদা জিয়া ছিলেন ধর্মপ্রাণ ও অসাম্প্রদায়িক, আধুনিক ও মানবিক, যার নেতৃত্বে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ নিরাপদ বোধ করতেন।
রিজভী অভিযোগ করেন, “একজন নারী সুস্থ অবস্থায় জেলখানায় প্রবেশ করলেন, আর বের হয়েছেন লাশের মতো অবস্থায়। ওষুধ, খাবার সবকিছুর প্রতি অবহেলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলা হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, দায় স্বয়ং শেখ হাসিনার।”
তিনি বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্ব তুলে ধরে বলেন, “তিনি ছিলেন সজ্জন ও স্বল্পভাষী। কখনো অশালীন ভাষায় জবাব দেননি, তার সাংস্কৃতিক উচ্চতা অনন্য। তার সততা, নিষ্ঠা ও অঙ্গীকারই প্রকৃত রাজনীতির উদাহরণ। রাজনীতি মানে গালাগালি নয়, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা।”
রিজভী আরও বলেন, “বঙ্গবন্ধু-উত্তর প্রজন্ম ইতিহাসে দেখবে, একজন নেতা ছিলেন, যিনি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেননি, উন্মত্ত কথা বলেননি, এবং যা বলেছেন তা পূরণের চেষ্টা করেছেন। এটি বাংলাদেশের রাজনীতির একটি শিক্ষণীয় অধ্যায়।”
অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অপর্না রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ ছাত্রদল ও যুবদলের বিশিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


