ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যম সংস্কারের প্রত্যাশা জানালেন সম্পাদকরা
ক্ষমতায় গেলে সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের কাছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধানরা। তারা গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তারেক রহমান আসনভিত্তিক গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি সাংবাদিকদের বক্তব্য নোট নেন বলেও জানা গেছে। এ সময় তার পাশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে একাধিক সম্পাদক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে গণমাধ্যম সংকুচিত অবস্থায় রয়েছে। মামলা, গ্রেপ্তার, অফিসে হামলা ও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তারা প্রত্যাশা করেন, ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন সমালোচনাকে দমন না করে বরং গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ হিসেবে গণমাধ্যমকে গ্রহণ করে।
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক অগ্রাধিকার প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মিডিয়ার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ কমলেও এখনো সহিংসতা ও ভয়ের পরিবেশ পুরোপুরি কাটেনি। তিনি বলেন, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে সাংবাদিকদের নির্ভয়ে কাজ করার সুযোগ থাকা জরুরি।
নিউএজের সম্পাদক ও এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ অপরিহার্য। তিনি অতীতের মতো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পুনরাবৃত্তি না করার আহ্বান জানান।
দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বিগত বছরগুলোতে নির্যাতিত সাংবাদিকদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও কারাবন্দিত্ব ছিল এক ধরনের দমননীতি। ভবিষ্যতে এসবের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা চান তিনি।
কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, গোয়েন্দা-নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে সত্যিকারের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি সম্পাদকদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিয়মিত সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইনকিলাব, যুগান্তর, ইত্তেফাক, ইউএনবি, নাগরিক টিভি, নিউজ টোয়েন্টিফোরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। তারা সবাই গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।


