পাঁচ দিন ধরে আমার ওপর মিশাইল মারা হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি
পাঁচ দিন ধরে আমার ওপর মিশাইল মারা হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আপনারা জানেন গত ৫দিন ধরে আমার উপর মিসাইল মারা হচ্ছে। মিশাইলের আঘাতে আমাকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে একটি গোষ্টি। কিন্তু তাদের সকল প্রচেষ্টা বিফলে গেছে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ১১ টায় শহরের এ.টিম মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলন,আমার এক্স একাউন্ট হ্যাক করে তারা সম্পূর্ন মিথ্যে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছেন। আমাদের সাইবার টিম শতভাগ নিশ্চিত হয়ে, অপরাধীকে সনাক্ত করেছে। যারা এদেশে গনতান্ত্রিক সরকার চায়না, যারা এদেশের জনগণের সরকার চায়না, যারা এদেশকে গোলাম বানিয়ে রাখতে চায় তারা এই মিসাইল মেরেছে। গতকাল আমার এক্স একাউন্ট হ্যাকারকে আটক করেছে পুলিশ।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি আরও বলেন, আমার দুঃখ লাগে এতদিন রাজপথে যাদের সাথে হাতে হাত রেখে লড়াই সংগ্রাম করেছি তারাই এই ঘৃণিত কাজের সাথে জড়িত। আফসোস হয় সেই দলের বন্ধুরা আমরা উপর ঝাপিয়ে পড়েছে।

শফিকুর রহমান বলন, বাংলাদেশে ৫৪ বছরে বিভিন্ন দল ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের চেয়ে জনগণের পকেট কেটে নিজেদের কপাল কিসমত পরিবর্তনে বেশি কাজ করেছে। তারা জনগণের টাকা চুরি করেছেন, লুন্ঠন করেছেন, ব্যাংক ডাকাতি করেছেন, শেয়ার মার্কেট লুট করেছেন।

প্রধান অতিথি বলেন, এই লুন্ঠনের টাকা দেশে রাখার সৎসাহস ছিল না বলে তারা বিদেশে পাচার করেছেন। যার পরিমান হচ্ছে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা। এই টাকার মালিক আপনারা। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি ইনশাল্লাহ আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি তাহলে আর কাউকে চুরি করতে দিবনা। তাদের বিদেশে শান্তিতে থাকতে দিবনা। আমরা হাত মুঠ করে তাদের মুখের ভিতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে টাকা বের করে আনব ইনশাল্লাহ। তারা মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দূর্নীতি করেছেন।

জামাতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান বলেন- নওগাঁ একটি কৃষি ভিত্তিক জেলা। এ জেলায় বিপুল পরিমান আম উৎপাদন হয়, ধান উৎপাদন হয়। কিন্তু আফসোস এ জেলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। কৃষি হিমাগার নেই, রাস্তাঘাট সরু। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ইনশাল্লাহ আমরা যদি সরকার গঠন করি এ জেলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। কৃষি ভিত্তিক বিভিন্ন হিমাগার, সংরক্ষনাগার তৈরি করা হবে, আমের জন্য জুস প্রসেসিং কারখানা স্থাপন করা হবে। তিনি আরো বলেন- এ শহরের প্রানের দাবী ফোর লেন রাস্তা, ইনশাল্লাহ সেটিও করা হবে। এ জেলায় বিভিন্ন ঐতিহ্যবহী জায়গা রয়েছে। কিন্তু সেগুলার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষন হয় নাই।

তিনি আরও বলেন, পর্যটন শিল্প এখন বিশ্বে অন্যতম, কিন্তু অহবেলা, অযন্ত এবং দ্বায়িত্বহীনতার কারণে সেই সব আজ বিলুপ্তির পথে। আমরা সেই ঐতিহ্যবহী স্থাপনাগুলোকে আরো আধুনিকায়ণ করে তুলবো।
গত ৫৪বছর দেশে যে পরিমান দূর্নীতি হয়েছে আমরা তার হিসেব নিব ইনশাল্লাহ। গত ৫৪ বছর দেশের আনাচে কানাচে যেখোনে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি আমরা সেগুলো সংস্কার করবো ইনশাল্লাহ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নওগাঁ জেলা শাখার আয়োজনে নির্বাচনী বিশাল এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ জেলা শাখার আমীর ও নওগাঁ-৪ আসনের জামাতের প্রার্থী খ.ম আব্দুর রাকিব।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ব্যরিস্টার শাহরিয়ার কবির, ডাকসুর সাবেক জিএস এসএম ফরহাদ, নওগাঁ জেলা শাখা জামাতের সেক্রেটারি ও নওগাঁ সদর-৫ আসনের প্রার্তী আ স ম সায়েমসহ, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ও নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থীসহ, জুলাই যোদ্ধা ফিরোজ হোসেনসহ প্রমুখ।

বক্তব্য শেষে সকল প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দাঁড়ি পাল্লার প্রতীক তুলে দিয়ে উপস্থিত জনগণকে ১২ তারিখে ভোট দিতে বলেন। সেই সাথ গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিতে বলেন তিনি।

এরপর তিনি চাপাইনবয়াবগঞ্জ জনসভায় যোগ দিবেন। পরে রাজশাহী জনসভায় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এদিন বেলা ১১টায় নওগাঁর এটিম মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগদানের মধ্য দিয়ে তিনি রাজশাহী অঞ্চল সফর শুরু করলেন।

এদিন সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন থানা-উপজেলা ছাড়াও জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হন। মানুষের ঢলে এটিএম মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

শফিকুর রহমানকে দেখতে ও তাঁর কথা শুনতে সভাস্থলে সকাল থেকেই পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। মিছিলে নানা ধরনের স্লোগান, ব্যানার ও ফেস্টুনে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এটিম মাঠ।

বিপুল মানুষের চাপে সমাবেশস্থলের আশপাশের সড়কে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। অনেক তরুণকে প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার আশায় গাছ, উঁচু দেয়াল ও বিভিন্ন স্থাপনার ওপর উঠে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ-সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে এটিম ময়দান পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।

এদিকে সমাবেশকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাঠ ও আশপাশে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবিকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।