গণভোটে পাস হওয়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জামায়াতের
আদালতের ওপর নির্ভর করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে দেশে আবারও সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার ফলেই গত ১৬ বছর দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।
সোমবার (২ মার্চ) রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির এবং কেন্দ্রীয় নেতা জাহিদুর রহমান।
জুবায়ের বলেন, জুলাই ও আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি অগ্রাধিকার—সংস্কার, ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার এবং একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন—নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে। দীর্ঘ আলোচনার পর ৩৩টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গণভোটে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার প্রস্তাবের ৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ বা একনায়কতন্ত্র ঠেকানোর লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হয় এবং সব রাজনৈতিক দলই গণভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিল।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদের শপথের দিন বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংস্কারসংক্রান্ত অতিরিক্ত শপথ নেননি, যদিও ১১ দলীয় জোটের এমপিরা তা গ্রহণ করেছেন।
এদিকে গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিটের শুনানি শেষ হয়েছে এবং মঙ্গলবার এ বিষয়ে রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। জুবায়ের বলেন, এটি একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক বিষয়; তাই বিষয়টি সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতের মতো আবারও আদালতের কাঁধে ভর করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলে সংকট ঘনীভূত হতে পারে। গণভোটে পাস হওয়া জুলাই জাতীয় সনদ দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।
আদালতের সম্ভাব্য রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সংসদীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।


