১৮ বছর রাজপথে যুদ্ধ করেছি, এখন মূল্যায়ন না হলে কষ্ট লাগে: আফরোজা আব্বাস

রাজনীতি
১৮ বছর রাজপথে যুদ্ধ করেছি, এখন মূল্যায়ন না হলে কষ্ট লাগে: আফরোজা আব্বাস
নিউজ ডেস্ক
৭ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পরও নারীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে তা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। তিনি বলেছেন, নারীদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশ আরও দ্রুত উন্নতির পথে এগোবে এবং মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

শনিবার (৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত র‌্যালির আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আফরোজা আব্বাস বলেন, গত প্রায় ১৮ বছর ধরে নারীরা রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। দেশের স্বার্থে ঝুঁকি নিয়েও তারা রাজপথে নেমেছেন। তবে অনেক সময় দেখা যায়, প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তাদের আর তেমনভাবে মূল্যায়ন করা হয় না—যা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করে নারীরা আজ নতুন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। এই সময়ে যদি তাদের অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃতি না পায়, তাহলে তা হতাশার জন্ম দিতে পারে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত নারীরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন পাবেন।

নারী দিবসের প্রতিপাদ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীর অধিকার, সমতা, রাজনৈতিক ভারসাম্য ও উন্নয়নের নিশ্চয়তা—এসব বিষয় এখন শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৬ সালে এসে নারীর ক্ষমতায়নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার মধ্য দিয়েই এ বার্তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি থাকাকালে জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন যে দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের অবহেলিত রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি নারীদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

আফরোজা আব্বাস বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি গার্মেন্ট শিল্প, যা মূলত নারীদের শ্রম ও অবদানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মহিলা দলের সাবেক সভাপতি নুরী আরা সাফার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের পরিচালনায় সমাবেশে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরাও বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে সহসভাপতি নিলুফার চৌধুরী মনি, জাহান পান্না, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহানা আক্তার সানু, দপ্তর সম্পাদক শাহীনুর নার্গিস, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মমতাজ আলম, মহানগর উত্তর সভাপতি রুনা লায়লা এবং দক্ষিণের সভাপতি রুমা আক্তার উল্লেখযোগ্য।

সমাবেশ শেষে নয়াপল্টন থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি নাইটিঙ্গেল মোড় ও কাকরাইল মোড় ঘুরে পুনরায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।