রাউজানে আবারও গুলিতে নিহত বিএনপি কর্মী, তিন দিনে দ্বিতীয় হত্যা
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ফের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তিন দিনের ব্যবধানে নাছির উদ্দীন (৫৫) নামে আরও এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছেই এ হামলার শিকার হন তিনি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নাছির উদ্দীন ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শমসের পাড়ার বাসিন্দা। তিনি একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে বিএনপিতে সক্রিয় হন। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক জানান, হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, এলাকায় মাটি ও পাহাড় কাটা, চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এ ঘটনায় জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে নিহতের বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
পুলিশ জানায়, নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। কয়েক মাস আগে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘ চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়েছিলেন।
এর আগে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউসার উর জামান বাবলু নামে আরেক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাউজানে রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বেড়েছে। গত কয়েক মাসে উপজেলায় একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার বেশিরভাগই রাজনৈতিক বিরোধ ও দখল-চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


