৩৮ দিন ধরে তালাবদ্ধ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নাগরিক সেবা ভেঙে পড়েছে
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয়সহ অধিকাংশ আঞ্চলিক অফিসে টানা ৩৮ দিন ধরে তালা ঝুলছে। এর ফলে প্রায় এক কোটি মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বন্ধ রয়েছে জন্মসনদ, ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ারিশ সনদ, হোল্ডিং কর আদায়সহ ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ সেবা।
এই অচলাবস্থার পেছনে রয়েছে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের দাবিতে তাঁর সমর্থকদের আন্দোলন। ১৪ মে থেকে নগর ভবনের প্রধান ফটকসহ অঞ্চলভিত্তিক অফিসগুলোয় তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন তারা।
নগরের ধানমণ্ডি, বংশাল, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, লালবাগ, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।
-
ধানমণ্ডির মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ছেলের স্কুলে ভর্তি আটকে আছে, জন্মসনদ পাচ্ছি না।”
-
বংশালের ব্যবসায়ী ইমতিয়াজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তিনবার এলাম, ট্রেড লাইসেন্স তো দূরের কথা, ভেতরে ঢুকতেই পারিনি।”
-
যাত্রাবাড়ীর রেজাউল করিম জানান, হোল্ডিং কর দিতে এসে তালাবদ্ধ গেট দেখে হতাশ হয়ে ফিরেছেন।
ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিধন কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।
নগরের বিভিন্ন এলাকায় সড়কবাতি বন্ধ, মশার উপদ্রব বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগহীনতা জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, “একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দাবিদাওয়া আদায় গণতান্ত্রিক পন্থা হতে পারে না। এতে সাধারণ নাগরিকই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শাহজাহান মিয়া নগর ভবনে ঢুকতে পারছেন না। আর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. জিল্লুর রহমান কার্যক্রম চালাচ্ছেন একটি বিকল্প অফিস থেকে।
তিনি জানান, “কিছু সেবা বন্ধ রয়েছে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”


