সামনের কাতার খালি রেখে পেছনে দাঁড়ালে নামাজ হবে?
নামাজে কাতার সোজা করা এবং ফাঁকা স্থান না রাখা শুধু শৃঙ্খলার ব্যাপার নয়, বরং এটি ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে উম্মতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন,
“তোমরা কাতার সোজা কর, কাঁধ বরাবর রাখো, ফাঁকা পূরণ কর, শয়তানের জন্য ফাঁকা জায়গা রেখো না। যে কাতার ঠিক করে, আল্লাহ তাকে ঠিক করে দেন। আর যে বিচ্ছিন্ন করে, আল্লাহ তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেন।” (সুনানে আবু দাউদ)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বারবার সাহাবিদের কাতার সোজা ও পূর্ণ করতে বলেছেন।
বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন,
“আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন তাদের উপর, যারা প্রথম কাতারে কাতার সোজা করে দাঁড়ায়।” (সুনানে আবু দাউদ)
তিনি আরও বলেন, আল্লাহর কাছে এমন কোনো পদক্ষেপ নেই যা কাতারের ফাঁকা পূরণে নেয়া পদক্ষেপের চেয়ে বেশি প্রিয়।
রাসুল (সা.) একবার সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেন,
“তোমরা কি এমন কাতারবদ্ধ হবে না, যেমন ফেরেশতারা তাদের রবের সামনে কাতারবদ্ধ হয়?”
উত্তরে বলেন,
“তারা প্রথম কাতার পূরণ করে, এরপর পিছনের কাতারগুলো সোজা করে এবং একে অপরের সঙ্গে ঘেঁষে দাঁড়ায়।” (সহিহ মুসলিম)
যদিও ইসলামী শরিয়তে ফাঁকা রেখে পেছনে দাঁড়ালে নামাজ বাতিল হয় না, তবুও এটি সুন্নাহ বিরোধী এবং জামাতের আদব লঙ্ঘনের শামিল। এটি নিয়মিত করলে তা গুনাহের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।
সহিহ হাদিসে এসেছে,
“মানুষ যদি আজান এবং প্রথম কাতারের সওয়াব জানতো, তবে তারা লটারির মাধ্যমে হলেও তাতে অংশ নিতে চাইত। যদি তারা ফজর ও ইশার সওয়াব জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে আসত।” (বুখারি ও মুসলিম)


