জিহার কী?
ইসলামে ‘জিহার’ একটি গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক বিধান, যার সম্পর্কে অনেকের মাঝেই ভুল ধারণা রয়েছে। সম্প্রতি ইসলামি গবেষক ও আলেমরা বলেছেন, জিহার একটি গুরুতর উক্তি হলেও এর ফলে দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যায় না; তবে স্বামীকে কাফফারা আদায় করতে হয়।
জিহার কী?
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, স্বামী তার স্ত্রীকে কোনো মাহরাম নারীর সঙ্গে তুলনা করলে—যেমন মায়ের সঙ্গে, বোনের সঙ্গে বা এমন কোনো নারীর সঙ্গে যিনি চির Haram—তাহলে তা জিহার হিসেবে গণ্য হয়।
উদাহরণ:
“তুমি আমার মায়ের মতো।”
“তুমি আমার জন্য হারাম, যেমন আমার মা হারাম।”
এ ধরনের উক্তিকে পবিত্র কুরআনে “অসঙ্গত ও অসত্য কথা” বলে উল্লেখ করা হয়েছে (সুরা মুজাদালা: ২)।
জিহার করলে সম্পর্ক ভাঙে কি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিহার হলেও স্ত্রী মায়ের মতো চিরতরে হারাম হয়ে যান না এবং বিবাহ বন্ধনও ছিন্ন হয় না।
তবে কাফফারা প্রদান না করা পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কাফফারা কীভাবে দিতে হবে?
কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জিহারের কাফফারার ধাপগুলো হলো—
একজন মুমিন দাস মুক্ত করা
(বর্তমান যুগে দাসপ্রথা না থাকায় এটি প্রযোজ্য নয়।)
এটা সম্ভব না হলে—ধারাবাহিক দুই মাস রোজা রাখা
রোজা রাখাও সম্ভব না হলে—৬০ জন দরিদ্রকে আহার করানো
সুরা মুজাদালা (৩-৪ নং আয়াত) এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
কেন জিহার এত গুরুতর?
আলামারা মনে করেন, জিহার দাম্পত্য জীবনে অস্থিরতা তৈরি করে এবং এটি অত্যন্ত অসম্মানজনক উক্তি। তাই ইসলাম এ বিষয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। তারা জানান—
“জিহার হলো এমন একটি কথা যা বলা মোটেও উচিত নয়। এটি না শুধুমাত্র আল্লাহর নির্ধারিত সীমার লঙ্ঘন, বরং পরিবারিক শান্তির জন্যও ক্ষতিকর।”


