আদম (আ.) প্রথম যে কথা বলেছিলেন
মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদম (আ.)–কে সৃষ্টি করার পর তাঁর জিহ্বা থেকে সর্বপ্রথম উচ্চারিত হয়েছিল মহান প্রভুর প্রশংসা— ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’। ইসলামী শিক্ষায় উল্লেখ আছে, সৃষ্টির মুহূর্তে আদম (আ.) হাঁচি দিলে আল্লাহ তাআলাই তাঁর মুখে এই প্রশংসাবাক্য তুলে দেন। আর ফেরেশতারা সাড়া দিয়ে বলেন, ‘রাহিমাকাল্লাহ’—অর্থাৎ আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন।
(সুনানে তিরমিজি)
জুমার দিনের গুরুত্বেও রয়েছে আদম (আ.)–এর সৃষ্টি
হাদিসে নবী করিম (সা.) জানান, সব দিনের মধ্যে জুমার দিনই শ্রেষ্ঠ—এই দিনে আদম (আ.)–কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
১. মাটি থেকে সৃষ্টি
কোরআনে উল্লেখ আছে—আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের জানান যে তিনি মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করবেন।
(সূরা সোয়াদ: ৭১)
২. কর্দম থেকে শুকনো মাটি
মাটি পানির স্পর্শে হয়ে ওঠে ‘হামাউম-মাসনূন’ (দুর্গন্ধযুক্ত কাদামাটি) এবং শুকিয়ে গেলে তা রূপ নেয় ‘সালসাল’-এ (ঠনঠনে শুকনো মাটি)।
(সূরা হিজর: ২৬)
৩. মানুষের আকৃতিতে গঠন
হাদিস অনুযায়ী, আদম (আ.)–এর উচ্চতা ছিল ৬০ হাত। জান্নাতের মানুষের আকৃতিও হবে তাঁর অনুরূপ।
(সহিহ বুখারি)
৪. রূহ ফুঁকে দেওয়া
সম্পূর্ণ কাঠামো তৈরি হওয়ার পর আল্লাহ তাআলা তাঁর মধ্যে রূহ প্রবেশ করান। এর মাধ্যমেই প্রাণ, চেতনা, অনুভূতি ও বুদ্ধির জন্ম হয়।
(সূরা সিজদা: ৯)
সৃষ্টি শেষে আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)–কে পৃথিবীর সব জিনিসের নাম ও প্রকারভেদ শিক্ষা দেন। ফেরেশতাদের সামনে তা উপস্থাপন করে আল্লাহ বলেন—যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে এসবের নাম বলো। ফেরেশতারা জবাবে স্বীকার করেন—তারা কেবল সেই জ্ঞানই জানেন, যা আল্লাহ তাদের শিখিয়েছেন।
(সূরা বাকারা: ৩১–৩২)
কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন—তিনি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি (খলিফা) সৃষ্টি করবেন। ফেরেশতাদের পরিবর্তে আদম (আ.)–কে বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল তাঁর জ্ঞান, বোঝাপড়া ও প্রতিনিধিত্বের যোগ্যতা।
(সূরা বাকারা: ৩০)


