হজরত মুসা (আ.) ও ফেরাউন: নয়টি নিদর্শনের মাধ্যমে তাওহিদের আহ্বান

ধর্ম
হজরত মুসা (আ.) ও ফেরাউন: নয়টি নিদর্শনের মাধ্যমে তাওহিদের আহ্বান
নিউজ ডেস্ক
১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

মিশরের প্রাচীন শাসকদের ‘ফেরাউন’ নামে অভিহিত করা হতো। ইতিহাস ও ধর্মীয় বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত মুসা (আ.)-এর যুগের ফেরাউন ছিলেন চরম দাম্ভিক ও অহংকারী। তিনি নিজেকে মিশরবাসীর প্রভু ও খোদা বলে দাবি করতেন। আল্লাহ তাআলা এমন এক সময় হজরত মুসা (আ.)-কে নবুয়্যত দান করে তাকে ফেরাউনের কাছে তাওহিদ বা একত্ববাদের দাওয়াত দিতে পাঠান।

হজরত মুসা (আ.)-এর সমকালীন ফেরাউনের প্রকৃত নাম নিয়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, তিনি ছিলেন রামেসিস, আবার কেউ মনে করেন নবুয়্যতপ্রাপ্তির পর যাঁর মুখোমুখি হন, তিনি মারনেপতাহ। অন্য একটি মত অনুযায়ী, ওই ফেরাউনের নাম ছিল ওয়ালিদ ইবনে মাসআব ইবনে রাইয়ান, যিনি প্রায় চারশ বছর জীবিত ছিলেন।

কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের কাছে হজরত মুসা (আ.)-এর নবুয়্যতের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে ধারাবাহিকভাবে নয়টি সুস্পষ্ট নিদর্শন পাঠান। পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ইসরাইলের ১০১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মুসা (আ.)-কে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছিলেন, কিন্তু ফেরাউন তাকে যাদুগ্রস্ত বলে আখ্যায়িত করে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সুরা নামলের ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-কে নির্দেশ দেন, তিনি যেন তার হাত বক্ষের মধ্যে প্রবেশ করান—যা বের হলে উজ্জ্বল ও শুভ্র হয়ে উঠত। এটি ছিল ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের জন্য প্রেরিত নিদর্শনগুলোর অন্যতম।

বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসের আলোকে এই নয়টি নিদর্শনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—মুসা (আ.)-এর লাঠি নিক্ষেপ করলে ভয়ংকর অজগর সাপে পরিণত হওয়া, হাতের জ্যোতির্ময় হয়ে ওঠা, দুর্ভিক্ষ, বন্যা, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্তের আজাব। এসব আজাবে মিশরীয়রা চরম দুর্ভোগে পতিত হয়। খাবার, পানি ও নিরাপদ আশ্রয়ের তীব্র সংকট দেখা দেয়।

প্রতিবার কোনো আজাব নেমে এলে ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় ইমান আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও আজাব সরে গেলে তারা আবার কুফরে ফিরে যেত। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার চূড়ান্ত শাস্তি নেমে আসে। সমুদ্র বিভক্ত করে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে রক্ষা করা হয় এবং ফেরাউন তার সৈন্যবাহিনীসহ সমুদ্রে ডুবে মারা যায়।

সুরা আ’রাফের ১৩৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্তকে ধারাবাহিক নিদর্শন হিসেবে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় অহংকার ত্যাগ করেনি। ফলে তারা এক অপরাধী জাতিতে পরিণত হয়।

এই ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে অহংকার ও সত্য অস্বীকারের পরিণতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়।