শীতে তায়াম্মুম করা যাবে কি?
শীতকালে ঠান্ডা পানি দিয়ে অজু বা গোসল করলে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি দেখা দিলে ইসলামী বিধান অনুযায়ী তায়াম্মুমের মাধ্যমে অজু-গোসল করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ধর্মগুরুদের মতে, যদি পানিকে গরম করার সুযোগ থাকে, তবুও তায়াম্মুম করা বৈধ হবে না; এমন ক্ষেত্রে পানি গরম করে অজু বা গোসল করা কর্তব্য।
পানি গরম করার কোনো সুযোগ না থাকলে এবং ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি—যেমন শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, অঙ্গহানি, জ্বর, সর্দি, এলার্জি বা বাত-ব্যথা—হতে পারে, তখন তায়াম্মুম বৈধ বিকল্প হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
তায়াম্মুমের নিয়ম অনুযায়ী, মাটি বা মাটিজাতীয় বস্তু যেমন বালু, পাথর, চুন বা সুরমা ব্যবহার করে দুটি ধাপের মাধ্যমে মাসেহ করা হয়। প্রথমে হাতে মাটিতে দুইবার ছোঁয়া এবং মুখে মাসেহ করা, এরপর উভয় হাত কুনুই পর্যন্ত মাসেহ করা।
ইসলামিক বিধান অনুযায়ী, তায়াম্মুম অজু-গোসলের বিকল্প হলেও অজু ভাঙার সব কারণ—যেমন মল-মূত্র ত্যাগ—তায়াম্মুমকেও ভাঙে। এছাড়া, পানি গরম করার সুযোগ সৃষ্টি হলে বা শীত কমে গেলে তায়াম্মুম ভেঙে যাবে।
ধর্মীয় শিক্ষা অনুসারে, শীতের কনকনে ঠান্ডায় অজু করা কষ্টকর হলেও এই সময় অজু করা সওয়াব বাড়ায়। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, কষ্টকর অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ অজু, মসজিদে যাতায়াত এবং এক ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা আল্লাহর নৈকট্য ও অনুগ্রহ লাভের বিশেষ সুযোগ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করান, সারাদিন অজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করা উচিত, শীত বা গরম—সব পরিস্থিতিতেই অজু ধীরে, সুস্থভাবে এবং সতর্কভাবে সম্পন্ন করা উত্তম।


