ট্রাম্পকে ফিফার ‘পিস প্রাইজ’, আগেই যেসব চাহিদা জানিয়েছিল হোয়াইট হাউজ
গত নভেম্বরে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ঘোষণা করে, বিশ্বজুড়ে শান্তি, মানুষের ঐক্য এবং অসামান্য অবদানের জন্য ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ চালু করা হবে। ৫ ডিসেম্বর ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হাতে তুলে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। তবে এটি ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস জানায়, হোয়াইট হাউজ ফিফার কাছে পুরস্কার প্রদানের জন্য একগুচ্ছ শর্ত দিয়েছিল। সবচেয়ে বড় দাবি ছিল, ট্রফিটি ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির সমান উচ্চতার হতে হবে। যদিও ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির উচ্চতা ১৪.৫ ইঞ্চি, শান্তি পুরস্কারের ট্রফি সম্পর্কে ধারণা করা হচ্ছে এটি অন্তত এক ফুট উচ্চ।
হোয়াইট হাউজ চাইছিল, ট্রাম্প পুরস্কার গ্রহণের সময় পাশে দু’জন সেনা সদস্য থাকবেন। যদিও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি, তবুও অনুষ্ঠানে দুইজন নৌ-সদস্য ট্রাম্পের হাতে ট্রফি তুলে দেন।
টাইমস জানায়, পুরস্কারের আগে ট্রাম্প ও ফিফা প্রকাশ্যে দেখিয়েছেন যেন এটি অপ্রত্যাশিত—তবে ট্রাম্প নিজেই ফিফার সঙ্গে সমন্বয় করে পুরস্কার গ্রহণ নিশ্চিত করেছিলেন। ফিফা নতুন এই পুরস্কার চালু করে মাত্র দুই সপ্তাহ পর ট্রাম্পকে দেওয়া হয়, যা নৈতিকতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছে।
ফেয়ারস্কয়ার নামের একটি অধিকারকর্মী সংগঠন অভিযোগ করেছে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি ভঙ্গ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, “ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডাকে সমর্থন করে ইনফান্তিনো ফিফার সুনাম ও অখণ্ডতার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছেন।”
পুরস্কার হিসেবে ট্রাম্পকে একটি ট্রফি, মেডেল ও সনদ দেওয়া হয়। স্বাভাবিক নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীরা কেবল মেডেল পান। এছাড়া, বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠান চলাকালীন ইনফান্তিনো ভেন্যুটিকে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ বলে উল্লেখ করেন, যা দুই সপ্তাহ পর আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের পথে এগোতে থাকে।
এই বিতর্ক ফিফার নৈতিকতা পর্যবেক্ষক সংস্থাকে তদন্ত শুরু করতে বাধ্য করেছে, এবং বিশ্ব ফুটবলে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


