মধ্যযুগে ইউরোপ অন্ধকারে থাকলেও মুসলিম সভ্যতায় আলো জ্বেলেছিলেন যারা

ধর্ম
মধ্যযুগে ইউরোপ অন্ধকারে থাকলেও মুসলিম সভ্যতায় আলো জ্বেলেছিলেন যারা
নিউজ ডেস্ক
২ জানুয়ারি ২০২৬

ইতিহাসের পাতায় মধ্যযুগ ইউরোপে রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর যে ‘অন্ধকার যুগ’ নামে পরিচিত সময়, ঠিক সেই সময়ে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে মুসলিম সভ্যতা জ্বালিয়েছিল জ্ঞান ও বিজ্ঞান আলো। ইউরোপ যখন শিক্ষার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, তখন বাগদাদ, কর্ডোবা ও কায়রো ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোকে ছড়িয়ে দেওয়ার কেন্দ্র।

সেই সময়ে মুসলিম বিজ্ঞানীরা গ্রিক, পারস্য ও ভারতীয় জ্ঞান একত্রিত করে আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। ইউরোপের লাইব্রেরি ধূলাবালিতে ঢাকা পড়লেও মুসলিম মনীষীরা পৃথিবীকে নতুন আলো দেখিয়েছিলেন।

নিচে কয়েকজন প্রখ্যাত মুসলিম বিজ্ঞানীর অবদানের সংক্ষিপ্ত পরিচয়:

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

আল-জাজারি
১২ শতকে তার যান্ত্রিক সৃষ্টিগুলো ইসলামী স্বর্ণযুগের সর্ববৃহৎ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন হিসেবে গণ্য। পানি দ্বারা চালিত ঘড়ি, স্বয়ংক্রিয় হাত-ধোয়ার যন্ত্র এবং ওয়াইন সরবরাহকারী রোবটের মতো উদ্ভাবন তার সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম। ১২০৬ সালে তিনি সব সৃষ্টিকর্মকে গ্রন্থ কিতাব ফি মারিফাতিল হিয়ালিল হানদাসিয়্যাহ তে সংকলন করেন।

ইবনে আল-হায়সাম
দর্শন এবং আলো সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের জনক। তিনি প্রথম প্রমাণ দেন যে আলো কোনো বস্তু থেকে প্রতিফলিত হয়ে চোখে আসে এবং দর্শনানুভূতির কেন্দ্র মস্তিষ্কে। তার গবেষণা আধুনিক ক্যামেরা ও সিনেমার আবিষ্কারের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

ইবনে ফিরনাস
জ্যোতির্বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদান রেখেছেন। আল-মাকাতা জলঘড়ি, প্ল্যানিস্ফিয়ার, লেন্স এবং পাথরের স্ফটিক কাটার যন্ত্রের মতো উদ্ভাবন তারই সৃষ্টি। তিনি আকাশে উড়ার চেষ্টা করেছিলেন, যা পরবর্তীতে বিমান আবিষ্কারে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

আবুল কাশেম আল-যাহরাভি
শল্যচিকিৎসার জনক। ৩০ খণ্ড বিশিষ্ট বিশ্বকোষে ২০০টিরও বেশি অস্ত্রোপচার সরঞ্জামের বিবরণ রয়েছে। তার উদ্ভাবিত সরঞ্জাম আজও আধুনিক সার্জারিতে ব্যবহৃত হয়।

মরিয়াম আল-আস্ত্রোলোবি
নির্মাণ করেছিলেন জটিল অ্যাস্ট্রোল্যাব যন্ত্র, যা দিয়ে সময় নির্ণয়, তারার অবস্থান ও নেভিগেশনের কাজ করা যেত।

আল-খাওয়ারেজমী
বীজগণিতের জনক। তার নাম থেকেই আধুনিক ‘অ্যালগরিদম’ শব্দের উদ্ভব। হিন্দু-আরবি সংখ্যা পদ্ধতি ও শূন্যের ব্যবহার জনপ্রিয় করেছেন।

ইবনে সিনা
চিকিৎসাবিজ্ঞানের পথপ্রদর্শক। তার আল-কানুন ফিত-তিব্ব গ্রন্থ ১৭শ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রধান পাঠ্যবই হিসেবে ব্যবহার হতো।

জাবির ইবনে হাইয়ান
রসায়নের জনক। তিনি রসায়নকে জাদুবিদ্যা থেকে বৈজ্ঞানিক শাস্ত্রে রূপান্তরিত করেন এবং সালফিউরিক ও নাইট্রিক অ্যাসিডের সংশ্লেষণ করেন।

মধ্যযুগে মুসলিম সভ্যতার এই অবদান না হলে আধুনিক বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তি আজকের অবস্থানে পৌঁছাতো না। ইউরোপের অন্ধকার যুগে মুসলিম জ্ঞানীরাই ছিলেন বিশ্বের শিক্ষার আলোকে বাঁচিয়ে রাখার মূল বাহক।