শবে বরাতের ফজিলত ও আমল
শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত মুসলমানদের কাছে পরিচিত শবে বরাত নামে। ফারসি ভাষা থেকে আগত ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। অর্থাৎ শবে বরাত মানে মুক্তির রাত। যদিও হাদিসে সরাসরি ‘শবে বরাত’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি, বরং এ রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্যরাত।
বিশুদ্ধ হাদিস থেকে জানা যায়, এ রাতে আল্লাহ তাআলা তার অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। এ কারণেই ভারতীয় উপমহাদেশ, পারস্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এ রাতটি ‘মুক্তির রাত’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
শবে বরাত সম্পর্কে হাদিসে যা এসেছে
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“আল্লাহ তাআলা মধ্য শাবানের রাতে তার সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকান এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
— (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)
অন্য হাদিসে এসেছে, মধ্য শাবানের রাতে নামাজ আদায় ও পরদিন রোজা রাখার ফজিলতের কথা। এ রাতে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করে বান্দাদের ক্ষমা, রিজিক ও আরোগ্য দানের ঘোষণা দেন।
— (সুনানে ইবনে মাজা: ১৩৮৮)
এছাড়া হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, নবীজি (সা.) এ রাতে জান্নাতুল বাকিতে কবর জিয়ারত করেছেন এবং বলেছেন, এ রাতে বনু কালব গোত্রের বকরির লোমের সংখ্যার চেয়েও বেশি মানুষকে ক্ষমা করা হয়।
— (সুনানে তিরমিজি: ৭৩৭)
শবে বরাতে করণীয় আমল
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এ রাতের মূল শিক্ষা হলো—আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি এবং সম্পর্কের উন্নয়ন। এ রাতে যেসব আমল করা উত্তম—
-
ছোট-বড় সব গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিক তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা।
-
শিরক, হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে অন্তরকে পবিত্র করা।
-
আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ থাকলে তা মিটিয়ে ফেলা।
-
ফরজ নামাজের পাশাপাশি নফল নামাজে বেশি সময় দেওয়া।
-
জিকির, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতে মনোযোগী হওয়া।
-
কবর জিয়ারত করে মৃতদের জন্য দোয়া করা।
-
১৫ শাবান দিনে রোজা রাখা।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিশ্বাস, এই পুণ্যময় রাতে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের এক বিশেষ সুযোগ রয়েছে। তাই শবে বরাতকে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


