লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে চরমোনাই মাহফিলের সমাপ্তি, আখেরি মুনাজাতে বিশ্বশান্তির প্রার্থনা

ধর্ম
লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে চরমোনাই মাহফিলের সমাপ্তি, আখেরি মুনাজাতে বিশ্বশান্তির প্রার্থনা
নিউজ ডেস্ক
৪ এপ্রিল ২০২৬

লাখো মুসল্লির হৃদয়স্পর্শী ‘আমিন’ ধ্বনিতে আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে বরিশালের চরমোনাই মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ফাল্গুনের মাহফিল শেষ হয়েছে।

গত ১ এপ্রিল বাদ জোহর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে মাহফিলের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় সমাপনী অধিবেশন ও আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে এ আধ্যাত্মিক সমাবেশের পরিসমাপ্তি ঘটে।

সমাপনী বয়ানে চরমোনাই পীর মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আল্লাহভীতি অর্জন ছাড়া প্রকৃত সফলতা সম্ভব নয়। তিনি আমিত্ব ও অহংকার বর্জন, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার এবং আত্মশুদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি গিবত থেকে বিরত থাকা, নিয়মিত জিকির-আজকার করা, পরিবারে দ্বীনি শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি আরও বলেন, সহিহভাবে কোরআন তিলাওয়াত, আল্লাহওয়ালাদের কিতাব অধ্যয়ন এবং সাপ্তাহিক তালিম ও জিকিরের হালকায় অংশগ্রহণ একজন মুমিনের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

আখেরি মুনাজাতে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা নিরসন এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়। গত কয়েক মাসে চরমোনাইয়ের মুরিদদের মধ্যে মৃত্যুবরণকারীদের জন্যও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

মাহফিলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও পীর মাশায়েখগণ গুরুত্বপূর্ণ বয়ান প্রদান করেন। ধর্মীয় এ মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিশাল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে।

এদিকে, মাহফিলে অংশ নিতে এসে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। নরসিংদী ও টাঙ্গাইল থেকে আগত ওই দুই ব্যক্তির জানাজা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আয়োজকদের তথ্যমতে, অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রায় দুই হাজার মুসল্লিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাহফিলে দুইজন অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলেও জানা গেছে।

ধর্মীয় অনুশাসন, আত্মশুদ্ধি ও বিশ্বশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে শেষ হলো দেশের অন্যতম বৃহৎ এ ইসলামী সমাবেশ।