মাহরাম বলতে কী বোঝায়?
ইসলামে যেসব নারী-পুরুষের মধ্যে চিরস্থায়ীভাবে বিয়ে হারাম এবং যাদের পরস্পরের সঙ্গে দেখা করা বৈধ, তাদেরকে মাহরাম বলা হয়। ‘মাহরাম’ শব্দটি এসেছে আরবি ‘হারাম’ শব্দ থেকে। অর্থাৎ যাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ, তারা একে অপরের মাহরাম।
ইসলিামি শরিয়ত অনুযায়ী তিন ধরনের সম্পর্কের মাধ্যমে মাহরাম প্রতিষ্ঠিত হয়—রক্ত সম্পর্ক, দুধ সম্পর্ক এবং বৈবাহিক সম্পর্ক। এসব সম্পর্কের কারণে নারী-পুরুষের মধ্যে পর্দার বিধানে কিছু ছাড় থাকে এবং একান্ত প্রয়োজনীয় দেখা-সাক্ষাৎ বৈধ হয়।
যেসব সম্পর্ক মাহরাম হিসেবে গণ্য
রক্ত সম্পর্কের মাধ্যমে মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে ও বোনের মেয়ে মাহরাম হন।
দুধ সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুধমা ও দুধবোন মাহরাম হিসেবে বিবেচিত হন।
বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে শাশুড়ি, স্ত্রীর আগের স্বামীর গর্ভজাত মেয়ে এবং ছেলের স্ত্রীও মাহরামের অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র কোরআনের সূরা নিসায় এসব সম্পর্ক বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, কোন কোন নারীকে বিয়ে করা হারাম।
এছাড়া ইসলাম পুরুষকে সর্বোচ্চ চারটি বিয়ের অনুমতি দিলেও শর্ত হিসেবে স্ত্রীর অধিকার আদায় ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। সুবিচার করতে না পারার আশঙ্কা থাকলে একজন স্ত্রী নিয়েই সন্তুষ্ট থাকার কথা বলা হয়েছে।
ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে দেনমোহর নির্ধারণ ও পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেও নারী ও পুরুষ উভয়ের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।


