চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবি: নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন জোর আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই দুই দেশের পক্ষ থেকে এসেছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দেওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বুধবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করছে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তেহরান তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে রাজি হতে পারে, তবে এর বিনিময়ে কোনো ছাড় পাবে না।
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের প্রায় ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, নয়তো ধ্বংস করতে হবে। তবে ইরান শুরু থেকেই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না।
প্রায় তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতি আলোচনা সত্ত্বেও পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ইরানি বন্দর অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে গভীর মতবিরোধ রয়ে গেছে।
ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প ইরানকে “পরাজিত প্রতিপক্ষ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “তারা চুক্তির জন্য মরিয়া। কিন্তু আমরা আলোচনার বর্তমান অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট নই। হয় তারা আমাদের শর্ত মেনে নেবে, নয়তো সামরিক পদক্ষেপ সম্পূর্ণ করতে হবে।”
এদিকে বুধবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক প্রকাশ করে দাবি করে, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও ফি আদায়ের দায়িত্ব ইরান ও ওমান যৌথভাবে পরিচালনা করবে বলেও দাবি করা হয়।
তবে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবিকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার স্বার্থে দুই পক্ষ আলোচনা চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রশ্নে সমঝোতা এখনো অনেক দূরে। ফলে পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত থাকলেও সীমিত সমঝোতা বা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে।


