সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারের জরুরি বার্তা

সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারের জরুরি বার্তা
৩ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশি শ্রমজীবীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য সৌদি আরব। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করেছে সরকার।

সোমবার (২ নভেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সৌদি প্রবাসীদের জন্য এ নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। এতে ভিসা ও চাকরির চুক্তি থেকে শুরু করে ইকামা, বেতন, সামাজিক আচরণ, ধর্মীয় বিধান, অনলাইন ব্যবহার, সড়ক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় তুলে ধরা হয়েছে।

নির্দেশনায় সৌদি আরবে বৈধভাবে অবস্থান, স্থানীয় আইন মেনে চলা এবং যেকোনো সমস্যায় দালালের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ভিসা, নিয়োগকর্তা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সৌদি আরবে যাওয়ার আগে ভিসা, নিয়োগকর্তা ও নিয়োগচুক্তি ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিএমইটি ছাড়পত্র, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে নির্দেশনাগুলো হলো—

১. ভিসা, নিয়োগকর্তা ও নিয়োগচুক্তি ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।
২. বিএমইটি ছাড়পত্র, প্রশিক্ষণ ও মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
৩. পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিজের হেফাজতে রাখতে হবে।
৪. দালালের মৌখিক আশ্বাসে টাকা দেওয়া যাবে না।
৫. ভিজিট ভিসায় কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়া যাবে না।
৬. পাসপোর্ট নিয়োগকর্তা বা অন্য কারও কাছে জমা রাখা যাবে না।

ইকামা ও চুক্তি যাচাই

সৌদি আরবে অবস্থানকালে ইকামা সঙ্গে রাখা এবং এর মেয়াদ নিয়মিত পরীক্ষা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া QIWA প্ল্যাটফর্মে নিয়োগচুক্তি ও ওয়ার্ক পারমিট যাচাই করতে বলা হয়েছে।

১. ইকামা সঙ্গে রাখতে হবে এবং Absher অ্যাপে এর মেয়াদ পরীক্ষা করতে হবে।
২. QIWA-তে নিয়োগচুক্তি ও ওয়ার্ক পারমিট যাচাই করতে হবে।
৩. পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ছয় মাস আগে নবায়ন বা পুনরায় ইস্যুর উদ্যোগ নিতে হবে।
৪. না বুঝে কিংবা সাদা কাগজে কোথাও সই বা টিপসই দেওয়া যাবে না।
৫. ওটিপি ও পাসওয়ার্ড কাউকে দেওয়া যাবে না।
৬. ইকামা নবায়নের দায়িত্ব নিয়োগকর্তার; এ জন্য কাউকে আলাদা টাকা দেওয়া যাবে না।

বেতন, চাকরির অধিকার ও বিরোধ নিষ্পত্তি

নিয়োগচুক্তির কপি, কাজের প্রমাণ এবং বেতন পরিশোধের রেকর্ড সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে মন্ত্রণালয়। চাকরিসংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

১. নিয়োগচুক্তির কপি ও কাজের প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে।
২. ব্যাংকিং চ্যানেলে বেতন নিতে হবে এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট রেখে দিতে হবে।
৩. সমস্যা হলে মকতব আমল (১৯৯১১) অথবা বাংলাদেশ দূতাবাসে জানাতে হবে।
৪. ‘স্কিল ভিসা’ বা নিজ নিয়োগকর্তার বাইরে কাজ করা যাবে না।
৫. নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধ হলে কর্মস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া যাবে না।
৬. কর্মবিরতি, ধর্মঘট বা কাজে বাধা দেওয়া যাবে না।

চাকরি পরিবর্তন ও দেশে ফেরার নিয়ম

চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে QIWA প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। দেশে ফেরার আগে জরিমানা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও ফাইনাল এক্সিট ভিসার মেয়াদ যাচাই করার নির্দেশনাও রয়েছে।

১. QIWA প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বৈধভাবে চাকরি পরিবর্তন করতে হবে।
২. দেশে ফেরার আগে জরিমানা ও ট্রাভেল ব্যান আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
৩. দেশে ফেরার আগে মোবাইল সিম ও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে হবে।
৪. ৪০ হাজার রিয়াল বা তার বেশি নগদ অর্থ কিংবা সোনা সঙ্গে থাকলে কাস্টমসে ঘোষণা করতে হবে।
৫. প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার আগে নতুন কাজে যোগ দেওয়া যাবে না।
৬. ভিসার ইস্যু ও বৈধতা যাচাই না করে বিমানবন্দরে যাওয়া যাবে না।
৭. ফাইনাল এক্সিট ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রম করা যাবে না।
৮. টাকার বিনিময়ে অন্যের সোনা বা মোবাইল বহন করা যাবে না।

জনসমক্ষে আচরণ ও সামাজিক শিষ্টাচার

সৌদি আরবে চলাফেরার ক্ষেত্রে শালীন পোশাক, ভদ্র আচরণ ও স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জনসমক্ষে ঝগড়া, গালাগালি, মারামারি কিংবা পরিচয় ও গায়ের রং নিয়ে কটূক্তি থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

১. শালীন পোশাক পরতে হবে এবং ভদ্র আচরণ বজায় রাখতে হবে।
২. লাইনে দাঁড়াতে হবে এবং বয়স্কদের সম্মান করতে হবে।
৩. পুলিশ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে শান্তভাবে তা দেখাতে হবে।
৪. রাস্তায় থুতু, পানের পিক, ময়লা বা প্রস্রাব করা যাবে না।
৫. প্রকাশ্যে ঝগড়া, গালাগালি ও মারামারি করা যাবে না।
৬. জাতি, দেশ বা গায়ের রং নিয়ে কাউকে কটূক্তি করা যাবে না।

শিশু, নারী ও প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণ

শিশু ও নারীদের ব্যক্তিগত পরিসর এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অপরিচিত শিশুদের স্পর্শ করা, কোলে নেওয়া বা খাবার দেওয়া এবং নারীদের হয়রানি করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে—

১. অপরিচিত শিশুকে দূর থেকে সম্বোধন করতে হবে বা সালাম দিতে হবে।
২. দৃষ্টি সংযত রাখতে হবে এবং ব্যক্তিগত দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
৩. হারানো শিশু পেলে নিরাপত্তাকর্মী বা পুলিশকে জানাতে হবে।
৪. পুরুষ সদস্যের উপস্থিতিতে বাসায় কাজে প্রবেশ করতে হবে।
৫. প্রতিবেশী বা অপরিচিত কারও বাড়িতে প্রবেশের আগে অনুমতি নিতে হবে।
৬. শিশুদের আদর করা, স্পর্শ করা, কোলে নেওয়া বা খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৭. নারীদের দিকে তাকিয়ে থাকা, পিছু নেওয়া, স্পর্শ করা বা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না।
৮. অপরিচিত নারীর কাছে ফোন নম্বর চাওয়া বা বার্তা পাঠানো যাবে না।
৯. মার্কেট বা পার্কের ফ্যামিলি সেকশনে পুরুষদের একা প্রবেশ না করা এবং প্রতিবেশীর বাড়িতে উঁকি না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিধান

ধর্মীয় অনুশীলন ও স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে ধর্ম, রাজপরিবার ও সরকার নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

১. নামাজের সময় কাজ বন্ধ রেখে নামাজ আদায় করতে হবে।
২. রমজান মাসে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে খাওয়া ও ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩. ডান হাতে খাবার গ্রহণ ও জিনিসপত্র আদান-প্রদান করতে হবে।
৪. মসজিদে মোবাইল ফোন নীরব রাখতে হবে।
৫. ধর্ম, রাজপরিবার বা সরকার নিয়ে মন্তব্য ও পোস্ট করা যাবে না।
৬. মিছিল, সমাবেশ ও ধর্মঘটে অংশ নেওয়া যাবে না।
৭. তাবিজ-কবচ, তন্ত্র-মন্ত্র বা কবিরাজি কার্যক্রম করা যাবে না।
৮. মসজিদে কোনো ধর্মীয় সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।

ছবি, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার

অনলাইনে কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে যাচাই করা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া শিশু, নারী বা পরিবারের সদস্যদের ছবি তোলা এবং সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি-ভিডিও ধারণ বা প্রচার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

১. কোনো খবর শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে।
২. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও দুই ধাপের নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে।
৩. শুধু অনুমোদিত ও অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।
৪. ভিপিএন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫. অনুমতি ছাড়া শিশু, নারী বা পরিবারের সদস্যদের ছবি তোলা যাবে না।
৬. গুজব, অশ্লীল ভিডিও বা আপত্তিকর মিম ফরোয়ার্ড করা যাবে না।
৭. ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, প্রতিরোধ, আঘাতস্থল কিংবা নিরাপত্তা-সংবেদনশীল স্থানের ছবি ও ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ বা শেয়ার করা যাবে না।

সড়ক ও ট্রাফিক আইন

সৌদি আরবে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বৈধ লাইসেন্স, বিমা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে ঘটনাস্থল ছেড়ে না যাওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।

১. বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির বিমা নিশ্চিত করতে হবে।
২. সিটবেল্ট ব্যবহার এবং নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলতে হবে।
৩. দুর্ঘটনা ঘটলে নাজম ও পুলিশের রিপোর্ট নিতে হবে।
৪. ট্রাফিক সাইন অনুসরণ করতে হবে।
৫. লাইসেন্স বা বিমা ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না।
৬. গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না।
৭. ট্রাফিক জরিমানা বকেয়া রাখা যাবে না।
৮. দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়া যাবে না।

দুর্ঘটনা ও আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে করণীয়

দুর্ঘটনার সময় জরুরি সেবায় যোগাযোগ এবং উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আহত ব্যক্তিকে অপ্রয়োজনে সরানো বা দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় করে ছবি-ভিডিও ধারণ না করার পরামর্শও রয়েছে।

১. দুর্ঘটনা ঘটলে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ৯৯৭ অথবা জরুরি সেবা ৯১১ ও ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
২. উদ্ধারকারী দলের চলাচলের জন্য পথ খালি রাখতে হবে।
৩. দুর্ঘটনার সাক্ষী হলে যা দেখেছেন, শুধু তা-ই সত্যভাবে জানাতে হবে।
৪. প্রাণহানির তাৎক্ষণিক ঝুঁকি না থাকলে আহত ব্যক্তিকে টেনে তোলা যাবে না।
৫. দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় করা বা ছবি-ভিডিও ধারণ করা যাবে না।
৬. আহত বা নিহত ব্যক্তির মোবাইল ফোন কিংবা অর্থে হাত দেওয়া যাবে না।

অর্থ লেনদেন, ঋণ ও সঞ্চয়

প্রবাসীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ও অনুমোদিত এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হুন্ডি, অন্যের নামে ব্যবসা এবং নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা সিম অন্যকে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

১. শুধু ব্যাংক ও অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে।
২. প্রতি মাসে আয়ের একটি অংশ সঞ্চয় করতে হবে।
৩. বিল ও ঋণ নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে হবে।
৪. অনুমোদিত সীমার মধ্যে অর্থ পাঠাতে হবে।
৫. হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো যাবে না।
৬. নিজের সিম, কার্ড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অন্যকে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।
৭. অন্যের ঋণের জামিনদার হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৮. অন্যের নামে ব্যবসা করা যাবে না।

কমিউনিটি ও আবাসিক ক্যাম্পে করণীয়

প্রবাসীদের স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া অর্থ সংগ্রহ, আবাসিক ক্যাম্পে নারী অতিথি আনা এবং পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

১. কমিউনিটির সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখতে হবে এবং দেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
২. অনুষ্ঠান বা সভা আয়োজনের আগে অনুমতির নিয়ম জেনে নিতে হবে।
৩. ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে এবং অন্যের চলাচলের পথ আটকে গাড়ি পার্ক করা যাবে না।
৪. অনুমতি ছাড়া চাঁদা বা অর্থ সংগ্রহ করা যাবে না।
৫. ব্যাচেলর ক্যাম্প বা বাসায় নারী অতিথি আনা যাবে না।
৬. আতশবাজি ফোটানো, গাছ কাটা ও শিকার করা যাবে না।

ওষুধ ও মাদকসংক্রান্ত সতর্কতা

সৌদি আরবে ওষুধ নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষের (এসএফডিএ) নিয়ম অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রেসক্রিপশন ও ওষুধের মূল প্যাকেট সঙ্গে রাখার পাশাপাশি অপরিচিত কারও দেওয়া ব্যাগ বা ওষুধ বহন না করার পরামর্শ রয়েছে।

১. দেশ থেকে ওষুধ নেওয়ার আগে এসএফডিএর অনুমতি নিতে হবে।
২. ওষুধের প্রেসক্রিপশন ও মূল প্যাকেট সঙ্গে রাখতে হবে।
৩. অনুমতির জন্য এসএফডিএর ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে: https://cds.sfda.gov.sa
৪. অন্যের দেওয়া প্যাকেট, ব্যাগ বা ওষুধ বহন করা যাবে না।
৫. মদ ও জুয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
৬. প্রেসক্রিপশন ছাড়া কিংবা অতিরিক্ত পরিমাণে ওষুধ বহন করা যাবে না।

স্বাস্থ্য ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা

গরম আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত পানি পান, ছায়ায় বিশ্রাম এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাসামগ্রী ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

১. গরমের সময় প্রচুর পানি পান করতে হবে এবং প্রয়োজনে ছায়ায় বিশ্রাম নিতে হবে।
২. হেলমেট, সেফটি বেল্ট ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে হবে।
৩. বিদ্যুৎ ও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা রোদে কাজ করা যাবে না।
৫. বন্ধ ঘরে চুলা জ্বালিয়ে ঘুমানো যাবে না।
৬. বৈদ্যুতিক লাইন বা সকেটে ধারণক্ষমতার বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে না।

হজ-উমরাহ, পরিবার ও বিয়ে

হজ, উমরাহ ও জিয়ারাহ পালনের ক্ষেত্রে নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিয়ে আইনসম্মতভাবে নিবন্ধন এবং সন্তানের জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করার পরামর্শ রয়েছে।

১. নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে হজ, উমরাহ ও জিয়ারাহ করতে হবে।
২. বিয়ে আইনসম্মতভাবে নিবন্ধন করতে হবে।
৩. সন্তানের জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
৪. অনুমতি ছাড়া হজ করা বা হাজি বহন করা যাবে না।
৫. গোপন বা নিবন্ধনহীন বিয়ে করা যাবে না।
৬. বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

বিপদে পড়লে কোথায় যোগাযোগ করবেন

জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে না বুঝে আরবি ভাষায় লেখা কোনো কাগজে সই না করা এবং সমস্যা সমাধানের নামে দালালকে টাকা না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

১. জরুরি অবস্থায় ৯১১ ও ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।
২. বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ে যোগাযোগ করতে হবে।
৩. প্রয়োজনে দূতাবাসের অনুবাদ ও আইনি সহায়তা নিতে হবে।
৪. না বুঝে আরবি ভাষায় লেখা কোনো কাগজে সই করা যাবে না।
৫. পুলিশের সঙ্গে তর্ক বা ঝগড়ায় জড়ানো যাবে না।
৬. সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো দালালকে টাকা দেওয়া যাবে না।

সৌদি আরবে জরুরি যোগাযোগ নম্বর

মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নির্দেশনায় কয়েকটি জরুরি যোগাযোগ নম্বরও দেওয়া হয়েছে—

  • ৯১১: রিয়াদ, মক্কা, মদিনা ও পূর্বাঞ্চলে জরুরি সেবা
  • ৯৯৯: অন্যান্য অঞ্চলের জরুরি সেবা
  • ৯৯৭: অ্যাম্বুলেন্স
  • ৯৯৮: অগ্নিনির্বাপণ সেবা
  • ৯৯৩: ট্রাফিক পুলিশ
  • ১৯৯১১: শ্রমসংক্রান্ত অভিযোগ
  • ৮০০১০০০১২৫: দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং
  • ৮০০১০০০১২৬: কনস্যুলার সেবা
  • ১৬১৩৫: প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার

নির্দেশনার শেষাংশে সৌদি প্রবাসীদের বৈধভাবে অবস্থান, স্থানীয় আইন মেনে চলা এবং সব ধরনের আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো সমস্যায় পড়লে একা সিদ্ধান্ত না নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।