দান করা মরদেহ ইসরায়েলের সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অভিযোগ
শিক্ষা ও চিকিৎসা গবেষণার জন্য দান করা মরদেহ মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে—এমন অভিযোগ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর দাতা পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
আল জাজিরার অনুসন্ধান অনুযায়ী, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএসসি) যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সঙ্গে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ইসরায়েলি সার্জিক্যাল টিমের জন্য দান করা মরদেহ সরবরাহ করেছে। প্রকাশ্য নথিপত্রে দেখা যায়, ২০১৮ সাল থেকে এ ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য অন্তত ৮৯টি সংরক্ষিত মরদেহ ব্যবহার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও বলা হয়, এসব প্রশিক্ষণে ‘পারফিউশন’ প্রযুক্তির মাধ্যমে মরদেহে কৃত্রিম রক্ত সঞ্চালন করে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের আঘাতের অনুকরণে সার্জিক্যাল অনুশীলন করানো হতো। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুতর আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার দক্ষতা উন্নত করা।
বিষয়টি সামনে আসার পর অনেক দাতা পরিবারের সদস্য দাবি করেছেন, মরদেহ দানের সময় তাদের জানানো হয়নি যে সেগুলো সামরিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ বা বিদেশি সামরিক কর্মীদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে।
নেভাদার বাসিন্দা মিরিয়াম ভলপিন জানান, তার প্রয়াত মা জীবিত অবস্থায় গবেষণার উদ্দেশ্যে নিজের মরদেহ দান করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন, সেই দেহাবশেষ সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। এতে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আরও কয়েকজন পরিবারের সদস্য। তাদের অভিযোগ, মরদেহের সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দিয়ে দাতাদের কাছ থেকে সম্মতি নেওয়া হয়েছে।
তবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এই কর্মসূচিকে সরাসরি সামরিক প্রশিক্ষণ হিসেবে আখ্যায়িত করতে রাজি নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, এটি মূলত চিকিৎসা ও শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং অংশগ্রহণকারী চিকিৎসাকর্মীরা যুদ্ধরত সদস্য হিসেবে নয়, চিকিৎসা পেশাজীবী হিসেবেই অংশ নিয়েছেন।
অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, বাস্তবসম্মত চিকিৎসা প্রশিক্ষণের পরিবেশ তৈরির জন্য অভিজ্ঞ ট্রমা সার্জনদের তত্ত্বাবধানে এসব অনুশীলন পরিচালিত হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, প্রয়োজনীয় মরদেহের চাহিদা পূরণে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান ডিয়েগো (ইউসিএসডি) থেকেও মরদেহ সরবরাহ করা হয়েছে। তবে সান ডিয়েগো কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের কর্মসূচিকে সামরিক প্রশিক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করা বাস্তবতার পুরো চিত্র তুলে ধরে না।
বিতর্কের মধ্যেই দেহদান কর্মসূচির নীতিমালা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, দাতাদের স্পষ্টভাবে জানানো উচিত তাদের মরদেহ ভবিষ্যতে কী ধরনের গবেষণা, প্রশিক্ষণ বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
এরই মধ্যে কিছু সম্ভাব্য দাতা নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে। কয়েকজন জানিয়েছেন, মরদেহ ব্যবহারের সম্ভাব্য ক্ষেত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না থাকলে তারা ভবিষ্যতে দেহদান কর্মসূচিতে অংশ নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন না।
এদিকে মার্কিন নৌবাহিনী ২০২৯ সাল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে মরদেহ দান, গবেষণা, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং দাতাদের সম্মতির সীমারেখা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আভাস মিলছে।


