ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা

ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা
নিউজ ডেস্ক
৭ জুন ২০২৬

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা রবিন খুদার প্রতিষ্ঠিত ডাটা সেন্টার কোম্পানি এয়ারট্রাঙ্ক ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এই অর্থ বিনিয়োগ করা হবে, যার লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড কম্পিউটিং অবকাঠামোর সম্প্রসারণ।

বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন রবিন খুদা। বৈঠকের পরই এয়ারট্রাঙ্ক তাদের বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশ করে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভারতজুড়ে পাঁচ গিগাওয়াট সক্ষমতার ডাটা সেন্টার অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হবে মহারাষ্ট্রে, যেখানে তিন গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডাটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেভেন্দ্র ফাদনাভিস জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মুম্বাইয়ের রায়গড় এলাকায় জমি ক্রয়ের চুক্তিও সম্পন্ন করেছে এয়ারট্রাঙ্ক।

বিনিয়োগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এই উদ্যোগ ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশকে বৈশ্বিক ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং উদ্ভাবননির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা রবিন খুদা রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বয়েজ স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৮ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনীদের একজন হিসেবে পরিচিত রবিনের সম্পদের পরিমাণ দুই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে জানিয়েছে ফোর্বস।

ফোর্বস এশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রবিন খুদা বলেন, ভারতের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশাল জনসংখ্যা, দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রযুক্তি বাজারে পরিণত করেছে।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এয়ারট্রাঙ্ক বর্তমানে ভারত ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো খাতে কোম্পানিটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত।