নতুন করে ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফ’র সঙ্গে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী

নতুন করে ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফ’র সঙ্গে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক
২৯ জুন ২০২৬

পুরোনো ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে এসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ’র সঙ্গে নতুন করে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে চলা দ্বিতীয় অধিবেশনে এই কথা জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার আইএমএফ থেকে শূন্য হাতে ফিরে আসেনি। বরং ফ্যাসিবাদী সরকার আইএমএফ’র এমনকিছু শর্তে ঋণ নিতে রাজি হয়েছিল, যা জনগণের স্বার্থবিরোধী। এ কারণে ওই কর্মসূচি থেকে বর্তমান সরকার সরে এসেছে। নতুন করে ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফ’র সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৪ কোটি টাকা সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যা জিডিপির ৩৮.৬১ শতাংশ। এরমধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। বিদেশি ঋণ ৯ লাখ ৪৯ হাজার ১৮১ কোটি টাকা।’

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে অর্থনীতিতে চাপ পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন আমির খসরু।

অর্থ পাচার নিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এখন পর্যন্ত ১১টি মামলায় দেশ-বিদেশে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।’
শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো দলীয়করণ করা হয়নি। বরং দক্ষ অভিজ্ঞদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘ভিওন’ বাংলাদেশে আরও এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আগামীতে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রবণতা কমবে। ঋণ নেয়ার কারণে বেসরকারি খাত যাতে চাপে না পড়ে সে ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট থাকবে।’

জ্বালানি সক্ষমতা বাড়াতে আরও এলএনজি টার্মিনাল বাড়ানো, দ্বিতীয় রিফাইনারি স্থাপনসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান আমির খসরু। তাই জনগণকে একটু ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের নজরদারি করা হবে। এতে অনিয়ম দুর্নীতি কমবে।’