পঞ্চগড় রেলস্টেশনে উচ্ছেদ করা হলো ৪০ টি অবৈধ স্থাপনা
পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় সরকারি জমি অবৈধ দখল, ভাসমান দোকান নির্মাণ এবং অননুমোদিত স্থাপনা গড়ে তোলায় উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ।
পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুর হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে রেলওয়ের জমিতে থাকা ছোট-বড় ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাসহ মোট ৪০টি স্থাপনা স্ক্যাভেটর দিয়ে ভেঙে ফেলার পাশাপাশি উচ্ছেদ করা হয়। এসময় একমাত্র আয়ের পথ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্সের চেষ্টা করেও তারা লাইসেন্স পাননি। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বর্গফুট জমির জন্য ৪০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লাইসেন্স দিতে লক্ষাধিক টাকা দাবি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
উচ্ছেদ অভিযানে ঘর ভেঙ্গে ফেলা নুরজাহান বেগম বলেন, আমি একজন এতিম মা, আমার মা-বাপ কেউ নাই। দুই লাখ টাকা চাইছে আমি দিতে পারি নাই। এইজন্য আমার ঘরবাড়ি ভাইঙ্গা দেখেন কি কইরা দিছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেলওয়ের কানুনগো আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, আমি যদি কারো কাছে টাকা নেই তাহলে তো তারা আজকে ধরতো আমাকে। এতদিন একাই আসলাম কেউ কিছু বললো না। আজকে ভাংছি এখন নানা অভিযোগ। আসলে আমি যদি টাকা নেই বা টাকা চাই তাহলে তার প্রমাণ দিক তারা। তারা এখন অবৈধ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে নানা রকম কথা বলছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মঞ্জুর হোসেন বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে আমরা যে উচ্ছেদ কার্যক্রম প্রতিনিয়ত পরিচালনা করে থাকি, তারই একটা অংশ হিসেবে আমরা পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান করছি। আমরা ছয় মাস আগে থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। উনাদের আমরা প্রত্যেকটা দোকানে গিয়েছিলাম। উনাদেরকে বলেছিলাম যে আপনারা সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স গ্রহণ করবেন। লাইসেন্স গ্রহণ না করলে আপনাদেরকে এখান থেকে উচ্ছেদ করে দেওয়া হবে। এরপরে আমরা মাইকিং করেছি। আমাদের কানুনগো সাহেব এসে প্রত্যেকটা দোকানে রেড মার্কিং করেছে যারা লাইসেন্স করেনি। আজকে আসছি উচ্ছেদ করতে। আমরা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি।


