গণভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে: নাহিদ ইসলাম
রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটের অধিকার সরকার জনগণের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গণভোটের যে অধিকার জনগণের পাওয়ার কথা ছিল, সরকার তা কেড়ে নিয়েছে। দুটি ভোটে অংশ নেওয়া হলেও একটি ভোটের ফল বা সিদ্ধান্ত সরকার মেনে নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দেশে এখন কোনো সার্বজনীন কর্মসূচি নেই। আওয়ামী লীগ যেভাবে মুক্তিযুদ্ধকে দলীয়করণ করেছিল, বর্তমান সরকারও একইভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে দলীয়করণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
বিদেশে শেখ হাসিনার একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের যথাযথ কূটনৈতিক উদ্যোগের ঘাটতির কারণেই বিদেশের মাটিতে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার অভিযোগ, এতে দিল্লি সরকার সহায়তা করেছে। এ ঘটনায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান সরকার ‘ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ফিরিয়ে আনতে আপসকামী’ বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, সংবিধান সংশোধন কমিটি ইতোমধ্যে তাদের বৈধতা হারিয়েছে এবং সরকারের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।
শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এবং ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, কাঠামোগত রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়ন করা না হলে বর্তমান সরকারও একসময় ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের মতো পরিণত হতে পারে।
নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা। সেই সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে অভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।


