ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার অনুরোধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ভারতীয় শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় প্রথমে যাচাই করা হবে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ ও দণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত কি না।

এক ভারতীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, প্রত্যর্পণের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারণ করতে হবে, বাংলাদেশের করা অভিযোগগুলো ভারতীয় আইনের অধীনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস হওয়ায় তিনি ওই মাসেই দেশে ফিরতে চান।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন
প্রত্যর্পণ চুক্তিতে কী বলা আছে
ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বাংলাদেশ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধের সঙ্গে ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রও পাঠিয়েছে।
দুই দেশের ওই চুক্তিতে আদালতের রায়ে দণ্ডিত ব্যক্তি কিংবা বিচারাধীন আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে বিধান রয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধ প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতার বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে হত্যা, নরহত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার এবং হত্যায় প্ররোচনার মতো বেশ কয়েকটি অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার কথাও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইন অনুযায়ী, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার, পাসপোর্ট ও ভিসা বিভাগ প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার দায়িত্ব পালন করে।
চুক্তি ও আইনি শর্ত পূরণ হয়েছে বলে মনে হলে মন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে। তদন্ত শেষে প্রত্যর্পণের পক্ষে যথেষ্ট প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট হস্তান্তরের সুপারিশ করতে পারেন। বিপরীতে অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিক প্রমাণ না থাকলে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
কূটনৈতিক আলোচনাও অব্যাহত
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। তবে দিল্লির অবস্থান অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে।
এদিকে, আওয়ামী লীগের কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্যের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ভারতে অবস্থান করেও শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন সময়ে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এখন শুধু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয় নয়, বরং একটি জটিল আইনি প্রক্রিয়াতেও পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের অনুরোধের পর ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর দুই দেশের।

