বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সীমান্ত হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

অন্যান্য
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সীমান্ত হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
১৭ আগস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ আলম সীমান্ত (২০) হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ শামীম আজাদ তিন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—পেশাদার ছিনতাইকারী অনিক, আকাশ ও চান্দি বাবু।

নিহত সীমান্ত নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের শুক্কুরকারি মসজিদ গলির মো. আলম পারভেজের ছেলে। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নগরীর দেওভোগ এলাকায় মিন্নত আলী শাহ সাহেবের মাজারের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন সীমান্ত। ছিনতাইকারীরা তার পথরোধ করে ছুরিকাঘাত করে। পরে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ১ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত সীমান্তকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলম পারভেজ বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর তারা ছিনতাই ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষী ছিলেন। তাদের মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২০ মাস পর সোমবার তিন আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ বিপু বলেন, সাক্ষীদের দেওয়া বক্তব্য ও মামলার অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সীমান্তের বাবা আলম পারভেজ। তিনি বলেন, আর কোনো পরিবার যেন ছিনতাইকারীদের হাতে সন্তান হারিয়ে নিঃস্ব না হয়। কোনো মায়ের বুক যেন আর খালি না হয়—এটাই তার প্রত্যাশা। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের উচ্চ আদালতের প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তিনি।