বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান এফবিসিসিআইর

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান এফবিসিসিআইর
১৭ আগস্ট ২০২৬

চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের (সিসিপিআইটি) একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. ফজলুল হক।

বৈঠকে স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও চীন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করে। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হলেও এর বড় অংশই চীনের অনুকূলে। বিপরীতে চীনের বাজারে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি এখনো ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এই ভারসাম্যহীনতা কমাতে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের নিয়ে সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন ফজলুল হক। তিনি বলেন, চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রেই নয়, চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণেও নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। চীনা উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু বা সম্প্রসারণ করতে চাইলে এফবিসিসিআই তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বলেও আশ্বস্ত করেন প্রশাসক।

বৈঠকের উন্মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা চীনা উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এসব খাতের মধ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মেডিকেল ডিভাইস ও সরঞ্জাম, ওষুধ ও এপিআই, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পাট ও পাটজাত পণ্য অন্যতম।

চীনের হংহে অঞ্চলের ব্যুরো অব কমার্সের পরিচালক হে তাও বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে উভয় দেশের উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাজার ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

বৈঠকে এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক আব্দুল হক, প্রীতি চক্রবর্তী ও ওবায়দুর রহমান, মহাসচিব মো. আলমগীর, সেইফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শাহিদুল্লাহ, এফবিসিসিআইর সাধারণ পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এবং সিসিপিআইটির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।