নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
২৩ আগস্ট ২০২৬

নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে বিবেচনায় না নিয়ে পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নেতৃত্বের গুণাবলিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে ‘নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনো কর্মকর্তা রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কারণে যেন সুবিধা বা অসুবিধার শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নির্বাচনী পর্ষদে নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদমর্যাদার যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।

অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে অ্যাডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। পরে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে নৌবাহিনীকে আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৌ ও বিমানবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই বাহিনীর অবদানের কথা তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করেন। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিমানবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেন। ঢাকা সেনানিবাসে আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের (এডিএসআই) কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) ঘুরে দেখেন।

পরে অ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্সে (এআরডিসি) বিমানবাহিনীর গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রত্যক্ষ করেন। সেখানে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন, কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভি-টলসহ বিভিন্ন ধরনের ইউএভি প্রদর্শন করা হয়।

দেশীয় প্রযুক্তিতে এসব আধুনিক উড্ডয়নব্যবস্থা তৈরিকে বিমানবাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।