ব্রিকসে তারেক রহমান যাচ্ছেন কিনা, জানে না ভারত

ব্রিকসে তারেক রহমান যাচ্ছেন কিনা, জানে না ভারত
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, তিনি না গেলে বাংলাদেশ থেকে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন—এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য নেই ভারতের কাছে। সম্মেলনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এমন অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের সম্প্রসারিত পর্বে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। এর আগে দ্বিপক্ষীয় সফরেও তাকে ভারত যাওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে সম্পর্কে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগ, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা নিয়মিত বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন তিনি। এর পর বাংলাদেশে তাকে ফেরত পাঠানোর দাবি জোরালো হয়। একই সঙ্গে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড না চালানোর বিষয়ে নয়াদিল্লির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ কীভাবে অংশ নেবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়েও প্রশ্ন

শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাক্ষাৎকার নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন রণধীর জয়সোয়াল। ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এসব সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা, বিচারপ্রক্রিয়া এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেছেন।

সাক্ষাৎকারগুলোর বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো বক্তব্য আছে কি না, জানতে চাইলে জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য নেই।

আরেক সাংবাদিক জানতে চান, শেখ হাসিনা দাবি করেছেন ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনো সমঝোতা হয়নি এবং সরকারের সঙ্গে কোনো নেপথ্য আলোচনাও চলছে না। দেশে ফিরলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি বক্তব্য দিয়েছেন।

এসব বিষয়ে শেখ হাসিনা ভারত সরকারকে কিছু জানিয়েছেন কি না জানতে চাইলে জয়সোয়াল বলেন, এ সম্পর্কেও তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।

দিল্লিতে আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানেও অনুমতি মেলেনি

এদিকে গত ৫ আগস্টের পর নয়াদিল্লির ওই সংবাদকেন্দ্রে আরেকটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভা আয়োজনের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকজনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো স্পষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে সম্মেলনে যাবেন, নাকি অন্য কোনো প্রতিনিধি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন—এ বিষয়ে শুক্রবার পর্যন্ত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কোনো তথ্য দিতে পারেনি।