বাজারে এসেছে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন, দাম চড়া
বড় ডিসপ্লে, নতুন নকশা ও নানা আকর্ষণীয় ফিচার নিয়ে বাজারে এসেছে অ্যাপলের নতুন ফোল্ডেবল আইফোন। বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিভাইসটির উন্মোচন করা হয়। তবে উন্মোচনের পর থেকেই এর উচ্চ মূল্য এবং সম্ভাব্য ক্রেতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফোনটির দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অ্যাপলের নির্বাহীরা নতুন আইফোনে জুম, স্ন্যাক ও নেটফ্লিক্সসহ বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেখান। বড় পর্দাটি কাজ, কনটেন্ট তৈরি এবং বিনোদনের ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, সেটিও তুলে ধরা হয়।

বড় পর্দায় কাজ ও বিনোদনের সুবিধা
অ্যাপলের নির্বাহী কর্মকর্তা জন টার্নাস বলেন, আইপ্যাডের মতো সহজ ও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা যায় এমন বড় ডিসপ্লে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক হাব ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
তবে নতুন ফোনটির অবস্থান নিয়ে পুরোপুরি পরিষ্কার বার্তা দিতে পারেনি অ্যাপল—এমনটাই মনে করছেন কয়েকজন বাজার বিশ্লেষক।
ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিসের বিশ্লেষক ক্যারোলিনা মিলানেসি বলেন, অ্যাপল সাধারণত তাদের পণ্যের নির্দিষ্ট ক্রেতাগোষ্ঠী নিয়ে খুব একটা কথা বলে না। তবে নতুন ফোল্ডেবল আইফোনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি আরও বেশি এড়িয়ে গেছে।
শুরুতে বিক্রি বাড়াবে অ্যাপলের ব্র্যান্ড
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আইফোনের প্রাথমিক বিক্রি ভালো হওয়ার জন্য অ্যাপলের ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তাই যথেষ্ট হতে পারে। তবে প্রাথমিক উন্মাদনা কমে গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত দাম এবং ফোনটি মূলত কার জন্য—এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণার অভাব ডিভাইসটিকে সীমিতসংখ্যক ধনী প্রযুক্তিপ্রেমীর পণ্যে পরিণত করতে পারে। ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা রয়েছে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট নীল শাহ বলেন, ফোনটির বাজার অবস্থান নির্ধারণে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এটি মূলত কাজের জন্য, নাকি বিনোদনের জন্য—সেটি স্পষ্ট হয়নি। তবে তার মতে, আইফোন বরাবরই বহুমুখী ব্যবহারের ডিভাইস হিসেবে পরিচিত।
৩ হাজার ১৯৯ ডলার পর্যন্ত দাম
বিপণন কৌশলে অ্যাপল ব্যাপক বাজারকে লক্ষ্য করলেও সর্বোচ্চ স্টোরেজ সংস্করণের দাম ৩ হাজার ১৯৯ ডলার হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—কতজন ক্রেতা এই অর্থ খরচ করতে আগ্রহী হবেন।
তুলনাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আইপ্যাডের সঙ্গে। ২০১০ সালে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস আইপ্যাড উন্মোচনের সময় এটিকে মিডিয়া ও বিনোদন উপভোগের শক্তিশালী একটি ডিভাইস হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। নতুন ফোল্ডেবল আইফোনও বড় পর্দার মাধ্যমে একই ধরনের অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ফোল্ডেবল বাজারে বড় পরিবর্তনের আশা
গবেষণা সংস্থা আইডিসির হিসাবে, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারের ৩ শতাংশেরও কম অংশজুড়ে থাকবে ফোল্ডেবল ফোন। অ্যাপল এই বাজারে প্রবেশ করার পরও ২০২৭ সালে এ অনুপাত খুব বেশি বাড়বে না বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।
তবে প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়া মনে করছে, অ্যাপলের প্রবেশের কারণে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। ২০২১ সালের পর ২০২৬ সালেই ফোল্ডেবল ফোনের শিপমেন্টে সবচেয়ে বড় বার্ষিক উল্লম্ফন হতে পারে। এ বছর বিশ্বব্যাপী ২ কোটি ২৩ লাখ ইউনিট ফোল্ডেবল ফোন সরবরাহের পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তরুণদের জন্য দাম বড় বাধা
টেকনালিসিস রিসার্চের প্রধান বিশ্লেষক বব ও’ডোনেল মনে করেন, নতুন আইফোনের উচ্চ মূল্য সম্ভাব্য ক্রেতাগোষ্ঠীকে উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করবে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে।
তবে অ্যাপলের প্রতি অনুগত গ্রাহকদের কারণে শুরুতেই বিক্রি বাড়তে পারে বলে তার ধারণা। তার ভাষায়, নতুন ফোল্ডেবল আইফোন কিছু সময়ের জন্য এমন একটি পণ্যে পরিণত হতে পারে, যেটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকবে অনেকেরই।
উচ্চ দাম, সীমিত সরবরাহ এবং অ্যাপলের ব্র্যান্ড মূল্য—সব মিলিয়ে ফোনটি কিছু সময়ের জন্য মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে বলে মনে করছেন এই বিশ্লেষক।

