তিস্তা-ধরলায় বাড়ছে নদীর পানি, ঝুঁকিতে তীরবর্তী এলাকা

দেশজুড়ে
তিস্তা-ধরলায় বাড়ছে নদীর পানি, ঝুঁকিতে তীরবর্তী এলাকা
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এখনো পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কিছু পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। বর্ষা ও বন্যার তীব্রতার ওপর নির্ভর করে মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাধারণত ব্যারাজের জলকপাট বেশি সময় খোলা রাখা হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় নীলফামারীর ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। সন্ধ্যায় পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক ৮১ মিটার।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এর আগে সকাল ৯টায় একই পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের মিডিয়া সেল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পানি বাড়তে থাকায় নীলফামারীর ডিমলা ও লালমনিরহাটের নদীসংলগ্ন চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তিস্তার উজানের পানির প্রভাব পড়েছে রংপুরের নিম্নাঞ্চলেও। গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর সেতু পয়েন্টে নদীর পানি বেড়েছে। অন্যদিকে কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সকাল ৯টায় এ পয়েন্টে পানি ছিল বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নিচে। কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার বিপৎসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৩১ মিটার।

পানি বৃদ্ধির কারণে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসন দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতেও বলা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আসাদুজ্জামান জানান, গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জয়রাম ওঝা মৌজায় একসময় প্রায় ৫০০ মানুষের বসতি ছিল। নদীভাঙনে সেই বসতি এখন বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে। নতুন করে পানি বাড়ায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।

তার ভাষ্য, নদীপাড়ের মানুষের কাছে ঘর শুধু বসবাসের জায়গা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘদিনের স্মৃতি, শৈশব, সন্তানদের বেড়ে ওঠা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তিস্তার ভাঙনে একের পর এক বসতভিটা হারালেও নদীপাড়ের মানুষ এখনো নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ধরে রেখেছেন।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আন্দামান সাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী তিন দিন দেশের অভ্যন্তরে এবং তৎসংলগ্ন উজান এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, রংপুর অঞ্চলে ধরলা নদীর পানি বেড়েছে। তিস্তা ও দুধকুমারের পানি বর্তমানে সমতলে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী এক দিন তিস্তার পানি বাড়তে পারে। এরপর পরবর্তী দুই দিন পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমারের পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, উজানে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঢলের কারণেই তিস্তার পানি বাড়ছে। উজান থেকে পানি আসা অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় রংপুরে ১১ দশমিক শূন্য মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।