দেশের সব নাগরিকের হবে ‘ডিজিটাল ঠিকানা’, থাকবে হোয়াটসঅ্যাপ-ই-মেইল

দেশের সব নাগরিকের হবে ‘ডিজিটাল ঠিকানা’, থাকবে হোয়াটসঅ্যাপ-ই-মেইল
৭ অক্টোবর ২০২৬

দেশের সব নাগরিককে একটি ডিজিটাল ঠিকানার আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় প্রত্যেক নাগরিকের ই-মেইল, হোয়াটসঅ্যাপ ও অন্যান্য ডিজিটাল পরিচিতি ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডিজিটাল পরিচয় যাচাইয়ের পর প্রত্যেক নাগরিককে একটি পৃথক নম্বর দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।

ডাক অধিদপ্তরের ‘নাগরিক প্রান্তে বিদ্যমান ডাকসেবার সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি চলতি বছরের মার্চে শুরু হয়েছে এবং ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যে ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থাপনায় দুই কোটি টাকার বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমে দেশের পোস্টম্যানদের নির্ধারিত বিট এলাকা চিহ্নিত করে ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি করা হবে। এরপর প্রতিটি বিটের আওতায় থাকা পরিবার ও ডাক পৌঁছানোর স্থানগুলো শনাক্ত করে তথ্যভান্ডারে যুক্ত করা হবে। ধাপে ধাপে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের ঠিকানা এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পোস্টম্যানের বিট ধরে তৈরি হবে ডিজিটাল ঠিকানা

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টম্যানদের নির্দিষ্ট বিট রয়েছে। একটি বিটের আওতায় কয়েকশ পরিবার থাকতে পারে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাড়ির নম্বরের পরিবর্তে ব্যক্তির নাম, বাড়ির নাম বা স্থানীয় পরিচিতির মাধ্যমে ঠিকানা শনাক্ত করা হয়। এতে একই ধরনের বা অসম্পূর্ণ ঠিকানার কারণে ডাক ও অন্যান্য সেবা পৌঁছাতে জটিলতা তৈরি হয়।

প্রকল্পের আওতায় এসব বিট ডিজিটালভাবে চিহ্নিত করার পর প্রতিটি এলাকার পরিবার ও ডেলিভারি পয়েন্টের তথ্য যুক্ত করা হবে। এভাবে ধাপে ধাপে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ঠিকানা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক সঞ্জিত চন্দ্র পণ্ডিত জানান, ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ কাঠামো কীভাবে তৈরি হবে, তা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) নির্ধারণ করবে। ডাক বিভাগ এ বিষয়ে মূল ধারণা দিচ্ছে। কারিগরি কাঠামো, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি ঠিক করবে বুয়েট।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচ লাখ মানুষের তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে। তাদের ডিজিটাল পরিচয় যাচাই করে একটি নম্বর দেওয়া হবে। ওই নম্বরের মাধ্যমে নাগরিকের ঠিকানা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য শনাক্ত করা যাবে।

নিজের তথ্য নিজেই হালনাগাদের সুযোগ

সরকারি ব্যয় কমাতে এমন একটি ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নাগরিকরা নিজেরাই তাদের ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত এবং হালনাগাদ করতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে পাঁচ লাখ মানুষের তথ্য নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর কার্যকারিতা ও নাগরিকদের ব্যবহার পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, সচেতন ও শিক্ষিত নাগরিকরা ভবিষ্যতে নিজেরাই ওয়েবসাইটে ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করতে পারবেন। তবে যাদের স্থায়ী ঠিকানা নেই বা ডিজিটালভাবে তথ্য দেওয়ার সক্ষমতা নেই, তাদের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষ, বস্তিবাসী, ভাসমান জনগোষ্ঠী, যাযাবর ও নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীকেও ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি তথ্যও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা

ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থার বিদ্যমান তথ্য ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় তাদের পরিবারভিত্তিক তথ্য থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না থাকায় সেগুলো সরাসরি ব্যবহারের সুযোগ সীমিত।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাটি তৈরি করা হবে। পরে নাগরিকরা কীভাবে এটি ব্যবহার করছেন এবং এর কার্যকারিতা কতটা—তা পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে পরিধি বাড়ানো হবে। এতে অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদীভাঙন বা আর্থিক কারণে অনেক মানুষ স্থায়ী ঠিকানায় বসবাস করেন না। তাদেরও একটি ডিজিটাল ঠিকানা থাকা প্রয়োজন।

তার ভাষ্য, ই-মেইল, মোবাইল নম্বর বা অন্য ডিজিটাল পরিচিতির সঙ্গে ঠিকানার তথ্য যুক্ত করে একটি তথ্যভান্ডার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য—দেশের কোনো নাগরিক যেন ডিজিটাল ঠিকানার বাইরে না থাকেন।