চুয়াডাঙ্গায় বন্ধু ডেকে নিয়ে হত্যা করলো বন্ধু নেপথ্যে পরোকিয়া।

দেশজুড়ে
চুয়াডাঙ্গায় বন্ধু ডেকে নিয়ে হত্যা করলো বন্ধু নেপথ্যে পরোকিয়া।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার উসমানপুর গ্রামে বন্ধু চয়ন আলীকে (৪০) মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

নিহত চয়ন আলী আলমডাঙ্গা উপজেলার হার্দী গ্রামের কৃষি ক্লাবপাড়ার সারজেত আলী গদরের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে চপ ও পেঁয়াজু বিক্রি করতেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মঙ্গলবার সন্ধায় আলমডাঙ্গার হার্দী হাসপাতাল থেকে চয়নে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি তদন্ত বিকাশ চঁন্দ্র সরকার জানান, মালেশিয়া প্রবাশী কুষ্টিয়া জেলার মীরপুর আসাননগর গ্রামের মৃত ইয়ামিনের ছেলে হেলাল উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবার পরিজন নিয়ে বর্তমান ঠিকান চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার উসমানপুর গ্রামের বিশ্নাস পাড়া। হেলালের সাথে নিহত চয়নের দীর্ঘদিন ধরে গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে।

এলাকার মানুষও জানে, চয়ন ও হেলালের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। সেই সুবাদে হেলাল মালেশিয়া থাকলে চয়ন তার পরিবারের গার্জিয়ান হিসাবে দেখাশোনা করে থাকে। গত ১০/১২ দিন হলো হেলাল মালেশিয়া থেকে দেশে ফিরে এসেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে হেলাল তার বন্ধু চয়নকে মোবাইল ফোনে তার বাড়িতে আসতে বলে।

এর পর বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে হেলাল তার বন্ধু চয়নের মোবাইল ফোন থেকে তার ছেলে মারুফের মোবাইল ফোনে ফোন করে বলে তেমার বাবার কাছে টাকা পাওয়া যাবে তাকে আটকে রেখেছি তুমি স্ট্যাম্প নিয়ে এসো তোমার বাবাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাও। এ খবর পাওয়ার পর মারুফ তার বাবাকে ছাড়াতে বেলা ২ টার দিকে স্ট্যাম্প নিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হেলালের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ফোন করলে হেলাল তাদের জানিয়ে দেয় তোামার বাবা আমাদের বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়েছিল তাকে উদ্ধার করে হার্দী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে ওখানে যাও।

পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে যে জানতে পারে অজ্ঞাত এক ভ্যান চালক তার বাবা চয়নের মরদেহ রেখে পালিয়ে গিয়েছে। পুলিশ এ খবর পাওয়ার পর সন্ধ্যার পর চরনের মরদেহ উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা থানা রাখা হয়েছে,বুধবার তার মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। ওসি তদন্ত আরো জানান, নিহত চয়নের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে নিহত চয়ন তার বন্ধু হেলাল মালেশিয়া থাকলে চয়ন তার স্ত্রীসহ হেলালের শ্বশুর বাড়ির গার্জেন হিসাবে দেখভাল করতো এবং হেলালের স্ত্রীর সাথে চয়নের পরোকিয়া ছিল। তাই অনেকেরই ধারণা এ হত্যা পরোকিয়ার জেরেও হতে পারে।

এদিকে এঘটনার পর থেকে হেলাল পলাতক রয়েছে।