হুতিদের হামলায় সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ছবি : সংগৃহীত
ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবারের হামলার পর ভবনটির একাধিক তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ব্যক্তি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তাঁরা এ তথ্য জানান। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর সদর দপ্তরে হামলার ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট দুজনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ভবনটির দক্ষিণ অংশের নবম তলায় প্রথম আগুন লাগে। পরে তা ষষ্ঠ থেকে দশম তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ভবনটির ওপরের তিনটি তলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই অংশেই আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসেরের কার্যালয় অবস্থিত।
সূত্রগুলোর দাবি, আগুন ও বিস্ফোরণের প্রভাবে ভবনের ছাদের একাংশ ধসে পড়েছে এবং জানালা-দরজা উড়ে গেছে। চতুর্থ এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বুধবার ভোর পর্যন্ত আগুন জ্বলছিল।
তবে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতের হামলায় ভবনটিতে সীমিত আকারে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দেয়নি।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট দুজনের মতে, আরামকোর ওই কমপ্লেক্সে কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। তবে কিছু কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের কিছু কার্যক্রম বিশ্বের অন্যান্য কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকোর এই স্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাকেন্দ্র রয়েছে। এখান থেকে স্থল ও সমুদ্রের তেল উত্তোলন স্থাপনা, শোধনাগার, রপ্তানি টার্মিনাল এবং হাজার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের কার্যক্রম তদারকি করা হয়।
এ কারণে সদর দপ্তরটির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার পর তেল উৎপাদন ও সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় আরামকোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি ও সামগ্রিক প্রভাব সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট নয়।


