বাতিল হচ্ছে বিআরটি প্রকল্প, রূপান্তর হবে সাধারণ মহাসড়কে

দেশজুড়ে
বাতিল হচ্ছে বিআরটি প্রকল্প, রূপান্তর হবে সাধারণ মহাসড়কে
২০ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে নির্মাণকাজ চলার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বাস স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করে সড়কটিকে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটি শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলি স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট)’ নিয়ে আলোচনা শেষে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিআরটি করিডোরের স্টেশন ও লেন বিভাজক সরিয়ে সড়কটিকে তিন প্লাস তিন লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান দুই লেনের দুটি ওভারপাসকে চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিআরটি পরিচালনার জন্য গঠিত ‘ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি’ বন্ধ করে এর কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতায় নেওয়া হবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পাশাপাশি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), সওজ ও বিআরটি কোম্পানিকে।

ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণের বেশি, চালু হয়নি বিশেষ বাস

বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্পটি ২০১২ সালে গ্রহণ করা হয়। মহাসড়কের মাঝখানে পৃথক দুই লেনে বিশেষ বাস চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০১৬ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) ও গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটির (জিইএফ) অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল সওজ, সেতু বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। পরে তিন দফা সংশোধনের মাধ্যমে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকায়। গত ১৪ বছরে প্রকল্পটিতে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা ব্যয় হলেও বিশেষ বাস চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ, সিদ্ধান্তে আপত্তি সংগঠনের

এর আগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হকের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পটির কারিগরি দিক পর্যালোচনা করে এটি বাতিলের সুপারিশ করেছিল। একই সঙ্গে বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নত মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেয় দলটি।

বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদনে প্রকল্পটির পরিকল্পনা ও নকশায় ত্রুটি এবং বিভিন্ন বাস্তবায়নকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি উঠে আসে।

তবে প্রকল্পের কাজ ৯৭ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর এটি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ‘গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন’ নামের একটি সংগঠন। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানোর কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিআরটি অবকাঠামো অপসারণ ও মহাসড়ক পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি ওভারপাস সম্প্রসারণ এবং প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।