কখন ফল খাওয়া সবচেয়ে বেশি উপকারী? যা বলছে গবেষণা

স্বাস্থ্য
কখন ফল খাওয়া সবচেয়ে বেশি উপকারী? যা বলছে গবেষণা
২০ অক্টোবর ২০২৬

ফল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে ফল খাওয়ার সঠিক সময় নিয়ে প্রচলিত আছে নানা ধারণা। কেউ মনে করেন, খালি পেটে ফল খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন, খাবারের পর ফল খেলে হজমে সমস্যা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ধারণার মধ্যে কোনটি সত্য, তা জানতে বৈজ্ঞানিক তথ্যের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

পুষ্টিবিদদের মতে, ফল খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ‘সেরা সময়’ নেই। বরং প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল খাওয়া, ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থা এবং কোন ফল কতটা খাওয়া হচ্ছে—এসব বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

খাবারের পর ফল খেলে কি পাকস্থলীতে পচে যায়?

একটি প্রচলিত ধারণা হলো, খাবারের পর ফল খেলে তা পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে এবং পচে গিয়ে গ্যাস বা হজমের সমস্যা তৈরি করে। তবে এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পাকস্থলী একই সঙ্গে প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার হজম করতে পারে। তাই খাবারের সঙ্গে বা পরে ফল খেলে তা পাকস্থলীতে পচে যায় কিংবা পুষ্টি শোষণে বাধা সৃষ্টি করে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে খাবারের আগে ফল খাওয়া

ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে মূল খাবারের আগে ফল খাওয়া উপকারী হতে পারে। কারণ, ফলে থাকা পানি ও আঁশ দ্রুত পেট ভরা অনুভূতি তৈরি করে। ফলে মূল খাবারের সময় তুলনামূলক কম ক্যালরি গ্রহণ করা সম্ভব হতে পারে।

একটি ছোট ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের আগে ফল খাওয়া ব্যক্তিরা পরবর্তী মূল খাবারে কম ক্যালরি গ্রহণ করেছেন। আঁশ ধীরে হজম হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করে। তবে এই প্রভাব সবার ক্ষেত্রে একই রকম হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

ডায়াবেটিস থাকলে কখন ফল খাবেন?

ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে ফলের ধরন, পরিমাণ এবং খাবারের সঙ্গে তা কীভাবে খাওয়া হচ্ছে—এসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি।

২০২৪ সালের একটি গবেষণায় কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত ফল বিভিন্ন সময়ে খাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক তথ্য পাওয়া গেছে। মাঝারি বা উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত ফল মূল খাবারের পরে খেলে কিছু ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ফল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ফলের ধরন, পরিমাণ ও ব্যক্তিগত রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় রেখে খাদ্যতালিকা তৈরি করা ভালো।

ফল খেলে পেট ফাঁপে কেন?

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ফল খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে (আইবিএস) আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা নির্দিষ্ট ধরনের শর্করা হজমে সমস্যায় ভোগা মানুষের এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ফল খাওয়ার সময়ের চেয়ে ফলের ধরন ও পরিমাণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কোন ফল খেলে অস্বস্তি হচ্ছে, তা খেয়াল করে প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনা যেতে পারে। সমস্যা নিয়মিত হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ফল খাওয়ার অভ্যাস আরও কার্যকর করবেন যেভাবে

ফল একা খাওয়া যায়, আবার প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবারের সঙ্গেও খাওয়া যায়। যেমন, আপেলের সঙ্গে অল্প পিনাট বাটার কিংবা টক দইয়ের সঙ্গে বেরি খাওয়া যেতে পারে। এ ধরনের খাবারের সমন্বয় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে খাবারের সঙ্গে প্রোটিন, ফ্যাট ও আঁশ থাকলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির গতিও ধীর হতে পারে।

তবে সবার জন্য একই খাদ্যসংমিশ্রণ উপযোগী নয়। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী খাবার বেছে নেওয়াই ভালো।

ঘড়ির সময় নয়, নিয়মিত ফল খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ

ফল খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ‘পারফেক্ট’ সময় নেই। খালি পেটে, খাবারের আগে কিংবা পরে—যে সময় ফল খেলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সে সময়ই খেতে পারেন।

ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য খাবারের আগে ফল খাওয়া কারও ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। আবার খাবারের পর ফল খেয়েও অনেকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ডায়াবেটিস বা হজমের সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী ফলের ধরন ও পরিমাণ নির্ধারণ করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, ফল কখন খাচ্ছেন তার চেয়ে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও বৈচিত্র্যময় ফল খাওয়ার অভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ঘড়ির কাঁটার দিকে না তাকিয়ে শরীরের প্রয়োজন ও সহনশীলতা বুঝে নিয়মিত গোটা ফল খাওয়াই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার কার্যকর উপায়।