ডেমোক্র্যাটদের ‘শায়েস্তা’ করার হুঁশিয়ারি ইলন মাস্কের

ডেমোক্র্যাটদের ‘শায়েস্তা’ করার হুঁশিয়ারি ইলন মাস্কের
২২ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কের কর্মকাণ্ড ও কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নিতে পারেন। এমন পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পর ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ধনকুবের ইলন মাস্ক।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মাস্ক লিখেছেন, ‘যে তরবারি দিয়ে আঘাত করবে, সে তরবারির আঘাতেই মরবে।’ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের পরিকল্পনাসংক্রান্ত সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর একটি প্রতিবেদনের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

একই পোস্টে মাস্ক আরও লেখেন, যারা তাঁর সঙ্গে বিরোধে জড়াবেন, তাঁদের পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছেন, তা খুঁজে বের করবেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, শুধু অনুগত পুতুলদের পেছনে না ছুটে তিনি সরাসরি মূল ব্যক্তিদের লক্ষ্য করবেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইলন মাস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম বড় অর্থদাতা। স্পেসএক্সের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলারও প্রধান তিনি। সরকারি বিভিন্ন চুক্তিতে স্পেসএক্সের বড় অংশীদারত্ব থাকায় মাস্কের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি সিদ্ধান্তের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা দেন মাস্ক। পরে সরকারি ব্যয় কমানো এবং সরকারি কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্যোগেও নেতৃত্ব দেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যেতে পারে।

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত কমিটিগুলোর নেতৃত্ব দিতে পারবেন। এসব কমিটির মাধ্যমে সরকারি কার্যক্রম, সম্ভাব্য অনিয়ম এবং স্বার্থের সংঘাত নিয়ে তদন্ত জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে। এ পরিস্থিতিতে মাস্কও তদন্তের আওতায় আসতে পারেন।

পলিটিকোর প্রতিবেদনে প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্য জো লোফগ্রেনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, মাস্কের স্বার্থের সংঘাত ও সরকারি পদের অপব্যবহারসংক্রান্ত অভিযোগের তালিকা অত্যন্ত বিস্ময়কর। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফল বা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।