পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা ইস্যুতে ইরানের পাশে পাকিস্তানসহ ১২ দেশ

পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা ইস্যুতে ইরানের পাশে পাকিস্তানসহ ১২ দেশ
২৫ অক্টোবর ২০২৬

শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা বা হামলার হুমকি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ইরান, চীন ও রাশিয়াসহ ১২টি দেশ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

গত ২৩ অক্টোবর উপস্থাপিত ওই বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সুরক্ষাব্যবস্থার আওতায় থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যেকোনো ধরনের হামলার বিরুদ্ধে দ্ব্যর্থহীন অবস্থান নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বৈষম্য ছাড়াই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি নিয়ে গবেষণা, উৎপাদন ও ব্যবহারের অধিকার সব রাষ্ট্রের রয়েছে। শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং আইএইএর সংবিধানের নীতির পরিপন্থী। একই সঙ্গে এ ধরনের হামলা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির সতর্কতা

যৌথ বিবৃতিতে ১২টি দেশ সতর্ক করে বলেছে, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য অঞ্চলের বেসামরিক মানুষের জীবন ও পরিবেশের ওপরও গুরুতর এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশগুলো আরও বলেছে, এ ধরনের হামলা শুধু জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্যই ঝুঁকি তৈরি করে না, বরং পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকেও হুমকির মুখে ফেলে।

বিবৃতিতে ১৯৮১ সালের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৮৭ নম্বর প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করা হয়। ওই প্রস্তাবে পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলার নিন্দা জানানো হয়েছিল।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে ১২ দেশ

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো—বেলারুশ, বুরকিনা ফাসো, চীন, কিউবা, ইরিত্রিয়া, ইরান, নিকারাগুয়া, নাইজার, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।

বিবৃতির শেষাংশে দেশগুলো বলেছে, কোনো পরিস্থিতিতেই শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত পারমাণবিক স্থাপনাকে হামলা কিংবা হামলার হুমকির লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। এ ধরনের স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির প্রতি সম্মান বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।