কান উৎসবে বাংলাদেশের গর্ব: আদনান আল রাজীবের ‘আলী’ পেল বিশেষ স্বীকৃতি
৭৮তম কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। আদনান আল রাজীব পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আলী’ পেয়েছে স্পেশাল মেনশন (বিশেষ স্বীকৃতি) — যা বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য অর্জন।
শনিবার (২৪ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৪০ মিনিট), পালে দে ফেস্টিভ্যাল ভবনের গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন স্বল্পদৈর্ঘ্য ও লা সিনেফ বিভাগের প্রধান বিচারক, জার্মান পরিচালক মারেন আদে।
‘আলী’ হলো কানের স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভাগে প্রদর্শিত বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা। পুরস্কার ঘোষণার সময় যখন আদনান আল রাজীব উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে উঠে দাঁড়ান, তখন পুরো হল করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

১৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই চলচ্চিত্রের গল্প গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এক শহরে বসবাসকারী এক কিশোরকে ঘিরে, যেখানে নারীদের গান গাওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু এই কিশোর, যার নাম আলী, গায় নারীকণ্ঠে — এবং সেই গোপন শক্তিকে নিয়েই সে শহরের দিকে পাড়ি দেয়, একটি সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে।
পরিচালক আদনান আল রাজীব বলেন, “সিনেমাটি উৎসবের কথা ভেবে বানালেও যে কান পর্যন্ত যাবে, সেটা ছিল একেবারেই স্বপ্নাতীত।”
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিলেটের বিভিন্ন লোকেশনে টানা পাঁচ দিন ধরে সিনেমাটির শুটিং শেষ করেন। রাজীব দেড় যুগ ধরে টেলিভিশন কনটেন্ট নির্মাণে সক্রিয়, তবে কানে এটি তার প্রথম বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভাগে সেরা পুরস্কার স্বর্ণপাম জিতেছে ইসরায়েলের তৌফিক বারহোম পরিচালিত ‘আই অ্যাম গ্ল্যাড ইউ আর ডেড নাউ’।
‘আলী’-এর এই সাফল্য বাংলাদেশের সিনেমার জন্য একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত, যা ভবিষ্যতের তরুণ নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উঠে আসার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
ছবিটি এখনো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শনের অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমাপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন দেশের প্রেক্ষাগৃহে এটি দেখার জন্য।


