দেনমোহর ও ভরণপোষণ চেয়ে হিরো আলমের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

বিনোদন
দেনমোহর ও ভরণপোষণ চেয়ে হিরো আলমের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা
নিউজ ডেস্ক
২৮ মে ২০২৫

জনপ্রিয় ইউটিউবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচিত ব্যক্তিত্ব হিরো আলমের পারিবারিক জীবনে নতুন মোড়—তার স্ত্রী রিয়ামনি পারিবারিক আদালতে মামলা করেছেন। দেনমোহর ও ভরণপোষণ বাবদ ১২ লাখ টাকা দাবি করে গত সোমবার মামলাটি দায়ের করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিয়ামনি নিজেই।

তিনি বলেন,

“হিরো আলম ডিভোর্স দিয়েছে বলে দাবি করলেও আমি এখনো কোনো আইনগত নোটিশ হাতে পাইনি। আইনত এখনো আমি তার স্ত্রী। সে আমার কোনো খোঁজখবর নেয় না। তাই বাধ্য হয়ে আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”

প্রসঙ্গত, গত ১৭ এপ্রিল বগুড়ার এরুলিয়ায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিয়ামনির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন হিরো আলম। সেই সম্মেলনে তিনি বলেন,

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“আমি আর রিয়ামনির সঙ্গে সংসার করতে চাই না। ঢাকায় ফিরে গিয়ে ডিভোর্স নোটিশ পাঠাবো।”

তবে রিয়ামনির দাবি, তিনি ডিভোর্স সম্পর্কিত কোনো কাগজ পাননি। তাই তিনিই এখন আইনানুগ পদক্ষেপ নিয়েছেন।

ঘটনার পেছনে যে আবেগপ্রবণ পর্ব রয়েছে, সেটি হলো হিরো আলমের পালক বাবা আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যু। ১৫ এপ্রিল রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। পরদিন বগুড়ায় জানাজা ও দাফন হয়।

হিরো আলম অভিযোগ করেন,

“এক মাস ধরে আমার বাবাকে নিয়ে হাসপাতাল আর বাসার মধ্যে ছুটছিলাম, অথচ রিয়ামনি একবারও খোঁজ নেয়নি। এমনকি বাবার মরদেহ দেখতেও আসেনি।”

এ অভিযোগের পরেই তিনি সংসার ত্যাগের ঘোষণা দেন।

আইনজীবীরা বলছেন, পারিবারিক আইন অনুযায়ী দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবি বৈধ। যদি বিবাহবিচ্ছেদ আইনত সম্পন্ন না হয়, তবে স্ত্রী এমন দাবি করতেই পারেন।
সামাজিকমাধ্যমে সরব হিরো আলমের বিরুদ্ধে এ মামলা এখন পারিবারিক সম্পর্কের বাইরেও একটি পাবলিক ডিসকাশন টপিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই হিরো আলম ও রিয়ামনির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। কেউ কেউ আলমের আচরণকে ‘গোলযোগপূর্ণ’ বলছেন, আবার কেউ রিয়ামনির আইনি পদক্ষেপকে ‘বিচারপ্রার্থী নারীর ন্যায্য অধিকার আদায়ের চেষ্টার’ অংশ বলেও মন্তব্য করেছেন।

এই মামলা শুধু একটি পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং প্রভাবশালী অনলাইন ব্যক্তিত্বদের ব্যক্তিজীবন কতটা জনসমক্ষে প্রভাব ফেলে তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনি পথেই হয়তো এই জটিলতা নিরসনের পথ তৈরি হবে।