জনবল নিয়োগের এক যুগ পরও চালু হয়নি স্টেশন
কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলা-এ দীর্ঘদিন ধরেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় ছয় লাখ মানুষের এই বৃহৎ জনপদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হলেও অবকাঠামো ও সরঞ্জামের অভাবে এখনো কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, ৪৬১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলায় ফায়ার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০০৯ সালে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও মামলা সংক্রান্ত সমস্যায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন আটকে থাকে।
পরবর্তীতে ২০১৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একজন লিডার, দুজন ড্রাইভার এবং ১০ জন ফায়ার ফাইটার নিয়োগ দিলেও প্রয়োজনীয় যানবাহন ও সরঞ্জাম না থাকায় তারা বর্তমানে কুষ্টিয়া সদর-এ দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
সর্বশেষ ২০২২ সালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চুয়ামল্লিকপাড়ায় এক বাসিন্দার দেওয়া জমিতে স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলেও চার বছরেও প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। জমি সমতলকরণ ও বাজেট ঘাটতির কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
নদীবেষ্টিত ও কৃষিনির্ভর এই উপজেলায় ছোট-বড় শিল্পকারখানা থাকলেও অগ্নিনির্বাপণের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। ফলে আগুন লাগার ঘটনায় পাশের উপজেলা থেকে দমকল বাহিনী আসতে বিলম্ব হয়, এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
চলতি বছরের প্রথম চার মাসে অন্তত ১৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যাতে ফসলি জমি, বসতঘর এবং গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজেট বরাদ্দ পেলেই অবকাঠামোগত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।


