কিশোরগঞ্জের হাওরে ২৫৯ কোটি টাকার ফসলহানি, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় অর্ধলাখ কৃষক
টানা বৃষ্টি ও উজানি ঢলে কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলে ভয়াবহ ফসলহানির চিত্র উঠে এসেছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার ১২২ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার কৃষক। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে হাওর অধ্যুষিত উপজেলাগুলোতে। এর মধ্যে ইটনা উপজেলা-এ ৩ হাজার ২৬১ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অষ্টগ্রাম উপজেলা-এ ২ হাজার ৭০৩ হেক্টরে প্রায় ৬২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া তাড়াইল উপজেলা-এ ১ হাজার ২২৪ হেক্টরে প্রায় ২৮ কোটি টাকা, নিকলী উপজেলা-এ ৯২৩ হেক্টরে ২১ কোটি টাকা এবং করিমগঞ্জ উপজেলা-এ ৮৩০ হেক্টরে প্রায় ১৯ কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে।
অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার মধ্যে রয়েছে মিঠামইন উপজেলা, কটিয়াদী উপজেলা, সদর উপজেলা, ভৈরব উপজেলা, বাজিতপুর উপজেলা, কুলিয়ারচর উপজেলা এবং হোসেনপুর উপজেলা।
তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। তাদের অভিযোগ, প্রাথমিক জরিপে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত জমির তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের পথ পলি জমে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অকার্যকর জলকপাটের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারেনি। এতে বন্যা ছাড়াই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে।
এদিকে শ্রমিক সংকট, ডিজেলের উচ্চমূল্য এবং জমিতে পানি থাকায় হার্ভেস্টার ব্যবহার করতে না পারাও ক্ষতির বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কৃষকরা। ফলে সময়মতো ধান কাটতে না পেরে অনেকেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, ৪ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। এরপর আরও প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমি নতুন করে পানির নিচে গেছে, ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।


